ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সনের নবম মাস হলো রমজান মাস। এটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় একটি মাস। সহজ কথায়, এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের মাস।
রমজান বলতে কী বোঝায়?
‘রমজান’ শব্দটি আরবি ‘রমজ’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে দহন বা জ্বালিয়ে দেওয়া। এর প্রতীকী অর্থ হলো, এই মাসে মুমিন বান্দারা সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের গুনাহ বা পাপ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দেয়। এই মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ সকল মুসলিমের ওপর রোজা বা সিয়াম পালন করা ফরজ (আবশ্যক)।
কেন রমজান মাস পালন করা হয়?
রোজার মাস পালনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কারণ রয়েছে:
কুরআন নাজিলের মাস: এই মাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মহান আল্লাহ এই মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের জন্য পবিত্র আল-কুরআন নাজিল করেছেন। (সূরা বাকারা: ১৮৫)।
তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন: রোজার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মনে আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা তৈরি করা। নিজের নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে পরিশুদ্ধ হওয়া।
লাইলাতুল কদর: এই মাসে এমন একটি রাত রয়েছে (শবে কদর), যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে ইবাদত করলে অশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।
সহমর্মিতা ও ধৈর্য: দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে একজন সচ্ছল ব্যক্তি অভাবী মানুষের ক্ষুধার কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন। এটি সমাজে পারস্পরিক দয়া ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে।
গুনাহ মাফ: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
রমজান মাসের প্রধান আমলসমূহ
| আমল | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
| সিয়াম (রোজা) | সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার, পানীয় এবং অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা। |
| তারাবিহ | এশার নামাজের পর বিশেষ নফল নামাজ আদায় করা। |
| তিলওয়াত | অধিক হারে কুরআন পাঠ করা এবং এর মর্মার্থ বোঝা। |
| সাদাকা ও জাকাত | অসহায় মানুষকে দান-খয়রাত করা এবং সামর্থ্যবান হলে জাকাত প্রদান করা। |
| ইতিকাফ | রমজানের শেষ দশ দিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদে অবস্থান করা। |
রমজান কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং এটি চোখ, মুখ, কান ও মনকে সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে পবিত্র রাখার একটি প্রশিক্ষণ।

