Monday, 28 September, 2026

মালয়েশিয়ায় আলুর রপ্তানি হলেও শংকায় আলু চাষিরা


মালয়েশিয়ায় আলুর রপ্তানি হলেও শংকিত চাষিরা

এবার রংপুরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে। এই গ্রানুলা আলু আগাম জাতের এবং মালয়েশিয়ায় আলুর রপ্তানি শুরু হয়েছে। কিন্তু তবুও লোকসানের মুখে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের আশংকা উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠে আসবে না। মালয়েশিয়ায় আলুর রপ্তানি হলেও চাষিদের শংকা কিন্তু বাড়ছেই।

প্রতি ২৫ শতকে লোকসান ১৬ হাজার টাকা

চাষিদের কথায় জানা যায়, গ্রানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করে বিগত বছরগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন চাষিরা।

আরো পড়ুন
পুষ্টিগুণে অনন্য ‘ব্রকলি’: সঠিক চাষ পদ্ধতি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ব্রকলি চাষের সঠিক ও আধুনিক পদ্ধতি

বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘ব্রকলি’। দেখতে সবুজ ফুলকপির মতো এই সবজিটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন এবং সুস্বাদু। একসময় ব্রকলি কেবল Read more

তীব্র সার সংকট, পথ অবরোধ, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে রেকর্ড আগাম চাষাবাদ

চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে প্রধান প্রধান নদ-নদীতে বড় ধরনের কোনো বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি। Read more

কিন্তু এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে।

ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে তারা লোকসান গুনছেন গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে।

এই হিসাবে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে শুধু আগাম আলুতেই।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস জানায়, ওই অঞ্চলে এবার ১১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে।

সেই আলু চাষিরা আরও ২০ দিন আগ থেকেই তুলছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রামের রপ্তানীকারকরাও আলু সংগ্রহ শুরু করেছেন।

আলুতে লোকসান হবার রয়েছে বেশ কিছু কারণ

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আলুর দাম কমে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

তার মধ্যে আলু নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব, রপ্তানিযোগ্য ও শিল্পনির্ভর জাত উদ্ভাবন না করা উল্লেখযোগ্য।

একই সাথে গুনগত মান পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ল্যাব না থাকা, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে রপ্তানি না হওয়ার জন্যই আলুর দাম কম।

অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ চাষিদের পরিকল্পনাহীনভাবে আলু চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।

রংপুর কৃষি বিপণন অফিস এবং কৃষি অফিসে এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় আলুর চাহিদার কোন সঠিক হিসাব নেই।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহবুবার রহমান।

তিনি বলেন, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৯৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়।.

এতে তাদের ২ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে।

একই পরিমাণ জমিতে এ বছরও আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, এবারও উৎপাদনে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

অপরদিকে কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায় এখনও বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে গত বছরের আলু আছে।

সেই সাথেই  নতুন আলু আসায় এর দাম কম।

সূত্র থেকে জানা যায়, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, রাশিয়ায় আলু রপ্তানি হলেও করোনার সময় তা সম্ভব হয়নি।

তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করার লক্ষ্যে রংপুরের আলু কেনা হচ্ছে।

0 comments on “মালয়েশিয়ায় আলুর রপ্তানি হলেও শংকায় আলু চাষিরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ