Tuesday, 03 November, 2026

কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষে বিপ্লব


কৃত্রিম আলোতে ড্রাগন চাষে তিন গুন ফলন

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের মাঠে এখন রাতের আঁধারেও যেন দিনের আলো। আধুনিক ‘ইনডোর লাইটিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শীতকালীন অমৌসুমে ড্রাগন ফল চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনির। এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে শীতকালেও ড্রাগনের ফলন বেড়েছে প্রায় তিনগুণ, যা স্থানীয় কৃষিখাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যপদ্ধতি

সাধারণত শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর অভাবে ড্রাগন গাছে স্বাভাবিকভাবে ফুল ও ফল আসা কমে যায়। এই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে মনিরুজ্জামান তাঁর বাগানে স্থাপন করেছেন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি বাল্ব। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত—দুই দফায় কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এই অতিরিক্ত আলো গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সচল রাখে, ফলে শীতের তীব্রতাতেও গাছগুলো ফুল ও ফল দিতে সক্ষম হয়। সন্ধ্যা নামলেই বাগানজুড়ে জ্বলে ওঠা আলো এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা করে।

আরো পড়ুন
তেলাপিয়া মাছের শীতকালীন রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিচর্যা

বাণিজ্যিক মৎস্য চাষে তেলাপিয়া অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় মাছ। তবে শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে পুকুরের পরিবেশ এবং মাছের Read more

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কম খরচে লাভজনক আনারকলি (Passion Fruit) চাষ পদ্ধতি ও যত্ন
বাংলাদেশে আনারকলি চাষ

বাংলাদেশের কৃষিতে সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রচলিত ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক নাম হলো Read more

বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণ

কৃষক মনিরুজ্জামান প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৭ বিঘা জমিতে এই চাষ শুরু করলেও, সফলতার মুখ দেখে বর্তমানে তাঁর খামারের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ বিঘায়। এর মধ্যে ২০ বিঘা জমিতেই তিনি লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা চালু করেছেন। উদ্যোক্তা মনিরের মতে, ভরা মৌসুমের তুলনায় অমৌসুমে ড্রাগন ফল উৎপাদন করতে পারলে বাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।

প্রধান চ্যালেঞ্জ: উচ্চ বিদ্যুৎ ব্যয়

তবে এই আধুনিক পদ্ধতির বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরিচালন ব্যয়। মনিরুজ্জামান জানান, ২০ বিঘা জমিতে এই লাইটিং সিস্টেম সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়, যার সিংহভাগই চলে যায় বিদ্যুৎ বিলে। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “বিদ্যুৎ খরচ যদি বাণিজ্যিক খাতের পরিবর্তে কৃষিখাতের বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হতো, তবে আরও অনেক কৃষক এই লাভজনক প্রযুক্তিতে আগ্রহী হতেন।”

কৃষি বিভাগের ভাষ্য

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিত সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ শুধু শার্শায় নয়, সারাদেশেই অমৌসুমে ফল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

0 comments on “কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষে বিপ্লব”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ