Thursday, 16 April, 2026

রংপুরে বিলুপ্তপ্রায় মাছ রক্ষায় একাধিক অভয়াশ্রম


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় রংপুরে মাছের ঘাটতি পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে মাছের জন্য একাধিক অভয়াশ্রম।

বিশেষ করে দেশি মাছ চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আগামী দু-এক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে মাছের ঘাটতি থাকবে না।

তিস্তার উজানে বাঁধ নির্মিত হওয়ায় এ অঞ্চলে পানি শূন্যতা বিরাজ করছে। দিনাজপুর অঞ্চলের কাঁকর ও বালিযুক্ত মাটির পানির ধারণ ক্ষমতা কম। সর্বত্রই প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওযায় মাছের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে এই অঞ্চলে পানি স্বাদু হওয়ায় খুব দ্রুত মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন মৎস্য বিভাগ।

আরো পড়ুন
কৃষক কার্ডের যুগে বাংলাদেশ: ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কৃষক কার্ডের যুগে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “এ দেশে প্রধান পেশা কৃষি। দেশের চার কোটি পরিবারের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির Read more

আমন মৌসুমের মুখে ইউরিয়া সংকট: বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার, বাড়ছে ভর্তুকির চাপ
আমন মৌসুমের মুখে ইউরিয়া সংকট

আসন্ন জুন মাসে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান ফসল ‘আমন’ আবাদের মৌসুম শুরু হচ্ছে। ঠিক এই সময়ে ইউরিয়া সারের তীব্র আমদানির Read more

রংপুর মৎস অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় দেড় কোটির ওপর মানুষের বাস। শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক মিলে একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিনে মাছের চাহিদা ৬০ গ্রাম। সেই হিসেবে একজন মানুষের প্রতিবছর মাছের চাহিদা প্রায় ২২ কেজি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী মাছ খেতে পারছে না এই অঞ্চলের মানুষ। ফলে সারা বছরই মাছের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। প্রতিবছর এ অঞ্চলের মাছের চাহিদা ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ৯০ হাজার মেট্রিক টন।

সূত্র মতে, রংপুর বিভাগে অর্ধশত নদী-খাল প্রায় ৪ লাখ হেক্টর, ৮৩৭টি বিলে ৪০ হাজার ২৮৮ হেক্টর, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭০২টি পুকুরে ১২ হাজার ২৬৯ হেক্টর জমিতে মাছ চাষ হয়। এছাড়া বর্ষাকালে প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ হয়।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের সৃষ্টি পরিবেশগত পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতিতে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় জলাশয়গুলোতে পড়েছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। দারি, টিলা, কালা বাটা, ঘোড়া, পুটি, বোল, চিতল, গজার, রিটা, বট শিং, ঘাউড়া, সালবাইম,কাচকি, ফলি,শিল বাইলা ইত্যাদি দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।

রংপুর মৎস্য অধিদপ্তররের অতিরিক্ত পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে মাছের ঘাটতি পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশি পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর ইত্যাদি মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারিভাবে বিশিষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অভয়াশ্রম সংরক্ষণ ও মেরামত, সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলছে। এছাড়া মৎস্যকে যান্ত্রিক করণের প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হলেন এ অঞ্চলে মাছের ঘাটতি কমে যাবে।

0 comments on “রংপুরে বিলুপ্তপ্রায় মাছ রক্ষায় একাধিক অভয়াশ্রম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ