Wednesday, 28 October, 2026

দামের কারণে পূরণ হচ্ছে না ধান সংগ্রহ লক্ষমাত্রা


দামের কারণে প্রায় থেমে গেছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম। যার অন্যতম কারণ হলো হাটবাজারে চালের দাম বৃদ্ধি। যে দাম সরকার নির্ধারিত দামের থেকেও অধিক। এই অবস্থা সুনামগঞ্জের ধরমপাশা অঞ্চলে। উপজেলায় অবস্থিত  খাদ্যগুদাম দুটিতে  ৪ হাজার টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্ত গত তিন মাসের মোট ধান সংগ্রহের পরিমান দেড় হাজার  টন। এতে আশংকা দেখা দিয়েছে লক্ষমাত্রা পূরণের বিষয়টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন লক্ষমাত্রা পূরণ করা হয়তো সম্ভব হবে না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার  ধরমপাশা এবং মধ্যনগর  বাজারে সরকারি খাদ্যগুদাম দুটির অবস্থান। উভয় গুদামে 4 হাজার টন ধান বরাদ্দ পাওয়া যায়। সরকারি দাম অনুসারে কেজি দরে  ২৭ টাকা এবং মণ দরে ১০৮০ টাকা করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে পারবে। সরকারি নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান এই সকল গুদামে বিক্রয় করতে পারবেন।  এ উপজেলার দুটি সরকারি খাদ্যগুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয় ৬ মে থেকে। আগামি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহের সময় রয়েছে।

গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত ধরমপাশা খাদ্যগুদামে ধান সংগৃহিত হয়েছে।  মধ্যনগর খাদ্যগুদামে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয় ।কিন্তু হাটবাজারে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় গুদামে ধান সেভাবে সংগ্রহ হচ্ছে না। কৃষকেরাও দাম বেশি পাওয়ায় হাট-বাজারে চাল সরবরাহ করছেন। হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত  ও মধ্যনগর খাদ্যগুদামে ১ হাজার টন এবং ধরমপাশা খাদ্যগুদামে ৬৯১ টন ধান সংগৃহিত হয়েছে।

আরো পড়ুন
দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজনন রক্ষায় সরকারের বড় পরিকল্পনা: মন্ত্রী আমিন উর রশিদ
দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য দেশের বিভিন্ন হাওর, Read more

রংপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে জৈব সার: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খুলছে আয়ের পথ

রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে জৈব সার প্রস্তুত ও ব্যবহারের প্রবণতা আশানুরূপভাবে বাড়ছে। Read more

উপজেলার কৃষকেরা জানান যে সরকারি গুদামে চাল বিক্রয় করতে গেলে আর্দ্রতা পরীক্ষা সহ আরও নানাবিধ কর্মকান্ড সেরে তবেই তা বিক্রয় করতে পারেন। অন্যদিকে হাটবাজারে কোন রকম কোন ঝামেলা ছাড়াই তারা বেশি দামে সহজেই ধান বিক্রয় করতে পারেন।অন্যদিকে বাজারগুলোর আড়তদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান করোনাকালীন সময়ে ধানের দাম ক্রমশ উর্ধ্বগামী বলে অনেকেই মজুদ করে রাখছেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়  ধান মণ দরে ১১৮০ টাকা থেকে ১১৯৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি দামের থেকে ১০০-১১৫ টাকা বেশি।

ধরমপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতে,  হাটবাজারগুলোয় ধানের দাম সরকারি দামের চেয়ে বেশি হওয়ায়ি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বারবার থমকে যাচ্ছে। বাজারদর পরিবর্তিত না হলে খাদ্যগুদামে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনো  প্রায় অসম্ভব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূত্রে জানানো হয় যে লক্ষমাত্রা পূরণে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

0 comments on “দামের কারণে পূরণ হচ্ছে না ধান সংগ্রহ লক্ষমাত্রা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ