Tuesday, 19 May, 2026

চাঁদপুরে ‘কৃষকের অ্যাপে’ নিবন্ধন কম


চাঁদপুরে ‘কৃষকের অ্যাপে’ মাত্র তিন হাজার কৃষক নিবন্ধন করেছেন। এতে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মূলত কৃষক অ্যাপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকা এবং প্রচার প্রচারণার অভাবে আগ্রহী অনেক কৃষক তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। যদিও পাইলটিং পর্যায়ের এ পদ্ধতিতে নিবন্ধন না হলেও সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করা যাবে বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদফতর।

গত ১ এপ্রিল চাঁদপুর সদর, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তি-এ চার উপজেলায় কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রিতে আগ্রহীদের নিবন্ধন শুরু হয়। নিবন্ধনের শেষ দিন ১০ মে পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার তিনজন কৃষক নিবন্ধন করেন। বোরো চাষি এবং ধান থাকা সত্ত্বেও অনেক কৃষক অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারেননি। ফলে সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে বিড়ম্বনায় পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। অনেকে বলছেন, কৃষক অ্যাপ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।

আরো পড়ুন
পেঁয়াজ চাষের প্রধান রোগবালাই ও প্রতিকার: চাষিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইড
পেঁয়াজের রোগবালাই

বাঙালির রান্নাঘরে পেঁয়াজ ছাড়া একদিনও চলা দায়। মসলা হিসেবে এর চাহিদা বারোমাসি। তবে পেঁয়াজ চাষিদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ Read more

গোখাদ্যের চড়া দামে কোরবানির পশুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা
গাইবান্ধায় এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের চড়া দাম ও ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগে খামারিরা।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান জেলা গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের চড়া দাম Read more

চাঁদপুর কৃষি বিভাগ জানায়, এই জেলায় বর্তমানে বড় কৃষক রয়েছে এক হাজার ৬শ’ ৪৭ জন, মাঝারি কৃষক ২৩ হাজার ২শ’ ৮৪ জন, ক্ষুদ্র ৯৮ হাজার ৬শ’ ৬৬ জন, প্রান্তিক এক লাখ ৪৮ হাজার ১শ’ ৮৭ জন, এবং ভূমিহীন কৃষক রয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ২শ’ ৮৭ জন।

চাঁদপুরে এ পর্যন্ত অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সদরে ৪০০, কচুয়ায় ২৩৯, শাহরাস্তি ৪৭০ ও ফরিদগঞ্জে ১ হাজার ৮শ’ ৮৩ জন রয়েছেন। যার মধ্যে অন্যান্য উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানায় খাদ্য অধিদফতর।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের কৃষক জয়নাল গাজী বলেন, ‘অ্যাপ কি সেটাই তো জানি না। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। এখন আমরা আগের মতোই স্থানীয় যে ধান কিনতে আগ্রহী তার কাছে বিক্রি করে দিব। যেগুলো বুঝি না সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না। তাছাড়া আমাদের কেউ বুঝিয়েও দেয়নি।’

বারেক মিয়াজীসহ আরও কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘সরকার না-কি সরাসরি ধান কিনবে। কিন্তু আমরা জানি না সেটা কিভাবে। তাই স্থানীয় ক্রেতার কাছে ধান বিক্রি করছি। তবে সরাসরি বিক্রি করতে পারলে হয়তো আমাদের কিছু টাকা বেশি ব্যবসা হত।’

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা নরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘এ পদ্ধতি এখনো পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে। অনলাইন অ্যাপের আওতায় আসা চার উপজেলার বাইরেও আরও যে চার উপজেলা রয়েছে মতলব উত্তর, দক্ষিণ, হাইমচর ও হাজীগঞ্জের প্রকৃত কৃষক সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারবে। যারা নিবন্ধন করতে পারেনি তারা উপজেলা খাদ্য অফিসে গিয়ে ধান বিক্রি করতে পারবে। মূলত প্রযুক্তিতে যেসব কৃষক এগিয়ে তারাই নিবন্ধন করতে পেরেছে।’ নিবন্ধনের জন্যে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়েও সচেতনতা করা হয়েছে বলে জানান কৃষি অধিদফতরের এই কর্মকর্তা।

চাঁদপুর খাদ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিত্যানন্দ কুণ্ড বলেন, ‘চাঁদপুরে এ বছর ৮ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান বিক্রি করতে পারবে।’

কৃষক অ্যাপে নিবন্ধনের জন্যে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এছাড়া এ বছর ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ধান ক্রয় করা হবে।

0 comments on “চাঁদপুরে ‘কৃষকের অ্যাপে’ নিবন্ধন কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ