Sunday, 10 May, 2026

পাট বিক্রির ধুম পড়েছে চুয়াডাঙা জেলার বাজারগুলোতে


মৌসুমের শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টিপাত কম হয়। এতে পাট জাগ দেবার সময় সামান্য বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল পাট চাষিদের। পরবর্তীতে বৃষ্টি পর্যাপ্ত পরিমাণ হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে গেছে। ঠিকমতো পাট কেটে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।  তাই চুয়াডাঙায় পাট বিক্রির ধুম পড়েছে বিভিন্ন বাজারে।

এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ছিল। তাই পাটের ফলনও যথেষ্ট ভালো হয়েছে। বর্তমানে  বাজারে নতুন পাটের ভালো দাম পাওয়ায় বেশ আনন্দিত চাষিরা। এতে দীর্ঘদিন পর সোনালি আঁশে হাসি ফিরেছে।

পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা

আরো পড়ুন
আমন মৌসুমের আগে সারের সংকট: ১ লাখ টন ইউরিয়ার ঘাটতির আশঙ্কা, বিপাকে বিসিআইসি
আমন মৌসুমের আগে দেশে ১ লাখ টন ইউরিয়া সারের ঘাটতির আশঙ্কা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি। বিসিআইসি-র নতুন দরপত্রে মিলছে না সাড়া।

আগামী আমন মৌসুমকে সামনে রেখে দেশে ইউরিয়া সারের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে সারের মজুদ ৪ লাখ Read more

আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় কম সময়ে পেকে যাওয়া ধানের জাত উদ্ভাবনে জোর কৃষিমন্ত্রীর
বন্যার ক্ষতি থেকে ফসল বাঁচাতে সাত দিন আগে কাটা যায় এমন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে জোর দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন কৃষি কৌশল নিয়ে কাজ করছে সরকার। বর্তমান চাষ হওয়া ধানের জাতের চেয়ে Read more

কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট নিয়ে। কোথাও পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। আবার হাইওয়ে বা রাস্তার পাশে খুঁটি পুঁতে তাতে পাট শুকাতে দেয়া হয়েছে। কোথাও আবার পাটগাছ কেটে জাগ দিয়ে  আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। অনেকে অটোরিকশা, ভ্যানে করে বাজারে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। চুয়াডাঙার গ্রামাঞ্চলে এখন একটাই দৃশ্য চোখে পড়ে, সোনালি পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষক।

পাটের দাম বিগত বছর গুলোতে খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। এরমধ্যে গত বছর পাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায় হঠাৎ করে। মৌসুমের শুরুতেই প্রতিমণ পাট ২ হাজার টাকা থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও পরে বেড়ে যায়।  ৩৫০০ থেকে শুরু করে মৌসুমের শেষ পর্যায়ে হাটে প্রতিমণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকা পৌঁছে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জানায় গত বছর প্রতিমণ পাটের গড় মূল্য ৩৫০০ টাকা হয়েছিল ।

পাট চাষিরা জানান পাট চাষ করে পাট ঘরে তোলা যায় তিন মাসের মধ্যে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয় পাট চাষ করতে । এর বিপরীতে প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়।

এবছর পাটের মান ভেদে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত।  পাট চাষের খরচ বাদ দিলে পাট চাষিরা অভাবনীয় মুনাফা পাচ্ছেন ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার ২০,৫২৭ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে।  হেক্টরপ্রতি জমিতে পাট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬ টন। সে হিসেবে জেলায় ৭৩ হাজার ৮৯৭ টন পাট উৎপাদন হবে বলে তাদের ধারণা। বর্তমানে পাট কাটা ধোয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে ও পুরোদমে বেচা-কেনা চলছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন ড. আব্দুল মাজেদ। তিনি জানান, এবার ভালো ফলন হয়েছে পাটের। কৃষকরা  উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাচ্ছেন। আগামী বছর কৃষকরা আরও ব্যাপকভাবে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন পাটের দাম এ রকম থাকলে ।

0 comments on “পাট বিক্রির ধুম পড়েছে চুয়াডাঙা জেলার বাজারগুলোতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ