Wednesday, 01 July, 2026

আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা, মূল্য হ্রাসের শঙ্কা


পাঁচ দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় এবছর অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন তারা। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প উপায় খুঁজছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৃষকেরা। আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্যের চাষ শুরু করেছেন তারা। আলু বিক্রি করে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

উপজেলার কিশামত ছাওলা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘২ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করি বানের পানিত ধরা খাইছি। এবার আলুর দাম ভালো ছিল। তাই প্রথম বার আলু আবাদ করছি। আশা করছি তা থেকে লাভও হবে।’

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পাঁচ দফা বন্যা হলেও উপজেলা কৃষি বিভাগ তিন দফা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে। এতে বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয় প্রায় ২ হাজার হেক্টর রোপা আমন ও ১২৫ হেক্টর অন্যান্য ফসল। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ৭২ হেক্টর জমির রবিশস্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ প্রায় ১০ হাজার কৃষকের ২০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করলেও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ ছিল আরো বেশি।

আরো পড়ুন
মৎস্য চাষে নতুন বিপ্লব: বাকৃবি গবেষকদের উদ্ভাবনে ফিশমিলের বিকল্প দেশীয় ‘অণুশৈবাল’

বাংলাদেশের মৎস্য চাষের অন্যতম প্রধান ব্যয়বহুল উপাদান হলো মাছের খাবার বা অ্যাকোয়াফিড। বিশেষ করে ফিডে ব্যবহৃত আমিষের মূল উৎস ‘ফিশমিল’ Read more

বাকৃবি গবেষকদের ১৫ বছরের সাফল্য: নতুন রঙিন জাতের মুরগি উদ্ভাবন, মিলবে অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ মাংস
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকদের ১৫ বছরের গবেষণায় নতুন রঙিন জাতের মুরগি উদ্ভাবন। অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ মাংস ও খামারিদের জন্য উচ্চ মুনাফার সুযোগ।

দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস গবেষণার পর বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন উপযোগী একটি নতুন রঙিন গোশত উৎপাদনকারী মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি Read more

তবে কৃষি বিভাগ বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রবিশস্যের দিকে জোর দিয়েছে। এ জন্য ৫ হাজার ৭ শ ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে সরিষা, মশুর, খেসারি, মুগ ডাল, সূর্যমুখী, গম, টমেটো, মরিচের বীজ ও সার।

এ বছর উপজেলায় ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুসহ রবিশস্য আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বেশি আলু চাষ করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে আশায় কৃষকরা আলু চাষে ঝুঁকছে তা পূরণ নাও হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে চাহিদার অতিরিক্ত আলু উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করা হলেও কৃষকরা শুনছেন না। তারা বাজারে দাম ভালো থাকায় আলু চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

গতকাল বুধবার উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরের কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। অনেককে জমি তৈরিসহ সার প্রয়োগ ও আলু রোপণ করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ রোপণ করা আলু ক্ষেতের পরিচর্যা করছে।

কৃষকরা জানান, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা আলু চাষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে এ বছর আলুর বীজের দাম বেশি। ফলে উৎপাদনে খরচও বেশি হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান বলেন, ‘চরের মাটি আলু চাষের জন্য উপযোগী। আলুর ফলনও ভালো হয়। এবার বাজারে আলুর দাম ভালো থাকায় চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে বেশি দাম পাওয়ার আশায় অধিক আলু চাষ করা ঠিক হবে না।’

0 comments on “আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা, মূল্য হ্রাসের শঙ্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ