Monday, 07 September, 2026

কৃষিজমি রক্ষায় আসছে ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫


কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি রক্ষায় কৃষিজমি সুরক্ষা একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমি মন্ত্রণালয় দ্রুতই ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন বা ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আজ মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিষয়ক খসড়া পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার

জাতীয় টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত

আরো পড়ুন
অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সফল মৎস্য খাত, এবার নজর বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোয়: জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনীতে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ বর্তমানে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, Read more

দেশের অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বন্টন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করতে সরকারি জলমহাল, অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় সংস্কার করে স্থানীয় বেকার Read more

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, কৃষিজমি শুধু উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, এটি আমাদের জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রাণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের ফলে কৃষিজমি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ স্থিতিশীলতা সরাসরি কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল

উপদেষ্টা জানান, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভূমি জোনিং একটি কার্যকর নীতিগত হাতিয়ার। ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত এই খসড়া অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ, পরিকল্পিত ভূমি জোনিং এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

তিনি বলেন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। সঠিক নীতি, সচেতনতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একটি পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এই অধ্যাদেশে ভূমি জোনিং-এর ১৪টি শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

কঠোর সুরক্ষা ও শাস্তির বিধান

খসড়া অধ্যাদেশে কৃষিজমি সুরক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে:

  • রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এ যাই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীনে সংজ্ঞায়িত সকল কৃষি ভূমি সুরক্ষা করতে হবে।
  • অনুমতি ব্যতীত কৃষি ভূমি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না, শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না, কিংবা এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না যাতে কৃষি ভূমির শ্রেণি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
  • অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের উপস্থিতি

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

এছাড়া সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম সালেহ আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

0 comments on “কৃষিজমি রক্ষায় আসছে ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ