Thursday, 08 October, 2026

সিলেটে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বেশি দামে বিক্রি!


সিলেটে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে

কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে সিলেটে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। বিভাগের চার জেলায় প্রয়োজন অনুসারে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন বেশি দামে কেনাবেচার। তাদের অভিযোগ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে সার বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা ও কেজিপ্রতি চার টাকা বেশিতে কেনাবেচা হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ ডিলার থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা সকলের বিরুদ্ধে। সিলেটে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও গ্রামগঞ্জের হাটে এমন অনিয়ম চলছে।

কৃষি অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভাগে সারের কোনো ধরনের সংকট নেই। সিলেটে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

সেকারণে যাঁদের বিরুদ্ধে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় অধিদপ্তর।

আরো পড়ুন
চাপাইনবাবগঞ্জে অফ-সিজন আমের বিপ্লব: ফুরিয়ে গেছে কাটিমন, আসছে নতুন জাত!
চাপাইনবাবগঞ্জে অফ-সিজন আমের বিপ্লব: ফুরিয়ে গেছে কাটিমন, আসছে নতুন জাত!

চাপাইনবাবগঞ্জের অফ-সিজন আমের বাজারে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। গত কয়েক বছর ধরে কেজিতে ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাটিমন আম এখন ১৫০-১৮০ Read more

প্রাকৃতিক মহৌষধ: কালোজিরা, রসুন ও মধু একসাথে খেলে কী হয়?
কালোজিরা, রসুন ও মধু একসাথে খেলে কী হয়? জানুন জাদুকরী স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমাদের দৈনন্দিন রান্নাঘরে এমন কিছু ভেষজ উপাদান রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম তিনটি Read more

হাট-বাজারে সার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ডিলারদের বিরুদ্ধেও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলাতে ৯ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যদামে সার বিক্রির কথা।

কিন্তু তার পরেও কৃষকদেরকে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে।

একাধিক কৃষক জানান, এখন সিলেটে বোরো আবাদের মৌসুম চলছে।

বিভাগের অধিকাংশ এলাকা হাওর অধ্যুষিত হবার ফলে প্রতিবছরই পলি জমে।

তুলনামূলকভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে জমির উর্বরতা শক্তি ভালো।

এই অঞ্চলে মোটামুটি চাহিদা থাকে সারের।

তবে মৌসুমের শুরু বিধায় এখনো সারের প্রয়োজন খুব একটা দেখা দেয়নি।

আরও ১৫-২০ দিন পর থেকে সারের চাহিদা দেখা দেবে।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সে সময় বাড়তি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করতে পারে বলে তাদের আশংকা।

তবে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই তৎপর হলে বিক্রেতারা সারের দাম কোনোভাবেই বাড়াতে পারবে না।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় হচ্ছে সার

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের একাধিক কৃষক জানান, বাজারে এখনো সারের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে।

কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা ছাড়া বাড়তি দামে সার বিক্রির খুব একটা অভিযোগ নেই।

সুনামগঞ্জের কিছু হাটবাজারে অবশ্য অভিযোগ আছে।

এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয় থেকে জানায়, সরকার প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের খুচরা মূল্য ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

সেই সাথে টিএসপি বস্তা প্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা, এমওপি বস্তা প্রতি ৭৫০ টাকা, ডিএপি বস্তা প্রতি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চল থেকে আরও জানানো হয়, চলতি ডিসেম্বর মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৬ হাজার ৫৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণ হয়।

এছাড়া ৬ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন টিএসপি, ৫ হাজার ৯১৪ মেট্রিক টন এমওপি, ১৩ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিভাগের ৩২৯ জন ডিলারের মাধ্যমে এসব সার বিতরণ করা হয়।

ধরমপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি জানান, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা বেআইনি।

এ-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাঁরা এখনো পাননি বলেই জানান তিনি।

অভিযোগ পেলে তার সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের কার্যালয় সূত্রে যোগাযোগ করলে জানা যায়, বোরো মৌসুমের আবাদ ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগের চার জেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে।

যার বিপরীতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮০৭ হেক্টর জমিতে গত বৃহস্পতিবার বোরো রোপণ করা হয়েছে।

এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ২৪ শতাংশ।

0 comments on “সিলেটে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বেশি দামে বিক্রি!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ