Sunday, 11 October, 2026

কালিজিরা চাষের সঠিক ও লাভজনক পদ্ধতি


কালিজিরা চাষের সঠিক ও লাভজনক পদ্ধতি

কালিজিরাকে বলা হয় ‘মৃত্যু বাদে সকল রোগের মহৌষধ’। ভেষজ গুণ ও বাজারে ভালো দাম থাকায় বাংলাদেশে এখন বাণিজ্যিকভাবে কালিজিরা চাষ বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। নিচে কালিজিরা চাষের সঠিক ও লাভজনক পদ্ধতিগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১. উপযুক্ত সময় ও মাটি

কালিজিরা মূলত রবি মৌসুমের ফসল।

আরো পড়ুন
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘বাসাভা পেট সামিট’ এ উন্মোচিত হলো এসিআই-এর কৃমিনাশক ‘Prazinex

পোষা প্রাণী প্রেমী, ভেটেরিনারিয়ান এবং প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে দেশে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাসাভা পেট সামিট’ Read more

সফলভাবে গিরিবাজ (Tumbler pigeon) কবুতর পালন পদ্ধতি ও করণীয়
সফলভাবে গিরিবাজ কবুতর পালন পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যার নির্দেশিকা। জানুন ভালো জাত, নর-মাদি চেনার উপায়, ডিম-বাচ্চার সময়কাল ও বাজারদর সম্পর্কে।

বাংলাদেশের কবুতরপ্রেমী ও খামারিদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি জাত হলো গিরিবাজ কবুতর। আকাশে উঁচুতে উড়া এবং শূন্যে চোখধাঁধানো ডিগবাজি খাওয়ার Read more

  • সময়: কার্তিক মাস (অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি) বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

  • মাটি: দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি কালিজিরা চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। মাটিতে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে।

২. জমি তৈরি ও বপন পদ্ধতি

জমি ভালো করে ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

  • বপন: বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বপন করা হয়। তবে সারিবদ্ধভাবে বুনলে পরিচর্যা সহজ হয়। সারির দূরত্ব হবে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার।

  • বীজের পরিমাণ: বিঘা প্রতি (৩৩ শতাংশ) প্রায় ১ থেকে ১.৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

৩. সার প্রয়োগ (বিঘা প্রতি গড় হিসাব)

ভালো ফলনের জন্য সুষম সার ব্যবহার করা জরুরি:

  • গোবর: ৮০০-১০০০ কেজি

  • ইউরিয়া: ১০-১২ কেজি

  • টিএসপি (TSP): ৮-১০ কেজি

  • এমওপি (MOP): ৫-৬ কেজি

টিপস: জমি তৈরির সময় অর্ধেক ইউরিয়া এবং বাকি সব সার মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

৪. পরিচর্যা ও সেচ

কালিজিরার খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না, তবে মাটির রস বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • সেচ: চারা গজালে একবার এবং ফুল আসার সময় একবার হালকা সেচ দিলে ফলন বাড়ে।

  • আগাছা দমন: চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হলে একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।

৫. রোগ ও পোকা দমন

কালিজিরার রোগবালাই খুব কম হয়। তবে অনেক সময় ‘লেদা পোকা’ বা ‘জাব পোকা’ আক্রমণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে হালকা কীটনাশক বা নিম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬. ফসল সংগ্রহ ও ফলন

বীজ বপনের ১৩০-১৪০ দিনের মধ্যে ফসল কাটার উপযোগী হয়। যখন ফলগুলো হলদেটে বা কালচে বর্ণ ধারণ করবে, তখন গাছ কেটে বা উপড়ে নিতে হবে।

  • ফলন: সঠিক পরিচর্যায় বিঘা প্রতি ৮০-১০০ কেজি পর্যন্ত কালিজিরা পাওয়া সম্ভব।

লাভজনক হওয়ার কারণ

১. স্বল্প খরচ: অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে সার ও সেচ খরচ অনেক কম।

২. বাজারমূল্য: কালিজিরার বাজারমূল্য সবসময়ই ভালো থাকে (সাধারণত ৫০০-৮০০ টাকা কেজি বা তার বেশি)।

৩. সংরক্ষণ: এটি শুকনো অবস্থায় দীর্ঘসময় ঘরে রাখা যায়, তাই দাম বাড়লে বিক্রি করার সুযোগ থাকে।

0 comments on “কালিজিরা চাষের সঠিক ও লাভজনক পদ্ধতি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ