Thursday, 10 September, 2026

দেশের আমকে ব্যাপকভাবে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যেতে চাই: কৃষিমন্ত্রী


কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশের আমকে আমরা ব্যাপকভাবে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যেতে চাই। আমের রপ্তানি বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চ্যুয়ালি ‘আম রপ্তানি বাড়াতে করণীয়’ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আম রপ্তানিতে বাধাসমূহ চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ চলছে। এর ফলে আগামী বছর আম রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে।

আরো পড়ুন
বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান
ওমানে যাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। ৫ হাজার কৃষক ও ৫ হাজার মৎস্যজীবী নিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর। ভিসা চালুতে কূটনৈতিক চেষ্টা জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মোচিত হচ্ছে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার। বাংলাদেশ থেকে শিগগিরই ১০ হাজার দক্ষ ও অভিজ্ঞ Read more

ভূমিধস ও নদীভাঙন রোধে ‘বিন্না ঘাস’ চাষের সমীক্ষায় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন
নদীভাঙন ও ভূমিধস রোধে বিন্না ঘাস চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৩৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল সরকার।

দেশের নদীভাঙন, পাহাড়ি ভূমিধস এবং সড়ক-বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল রক্ষায় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ‘বিন্না ঘাস’ (Vetiver Grass) ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৩৪ Read more

ড. রাজ্জাক বলেন, এ বছর আমের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি ‘লকডাউন’ এবং বাজার না থাকায় চাষিরা আম বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছে ও আশানুরূপ দাম পায়নি। সেজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি যেতে হবে। যাতে চাষিরা আশানুরূপ দাম পায় ও আম চাষে আরও আগ্রহী হয়।

তিনি আরও বলেন, আম বাংলাদেশের একটি উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল। বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগ, আমের উন্নত জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে দেশে প্রতিবছর আমের উৎপাদন বাড়ছে। আম রপ্তানির সম্ভাবনাও অনেক। কিন্তু রপ্তানিতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে কম উৎপাদন করেও রপ্তানিতে এগিয়ে রয়েছে।

সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর আমের উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে আম উৎপাদনে সপ্তম স্থান অধিকার করেছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হলেও এর পরিমাণ উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। ২০১৯-২০ সালে দেশে প্রায় ১৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৭৯ মেট্রিক টন। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। ২০২০ সালে থাইল্যান্ড সর্বোচ্চ ৭৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আম রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও পাকিস্তান ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আম রপ্তানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ৫০ হাজার ডলারের আম রপ্তানি করেছে।

আম রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো উৎপাদনে উত্তম কৃষি চর্চার অভাব, রপ্তানিযোগ্য উন্নতজাতের অভাব, সেলফ লাইফ কম, সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে শনাক্তকরণের অভাব, আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাব, ব্র্যান্ডিং ইমেজ সৃষ্টি না হওয়া, রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব প্রভৃতি। সেজন্য আম রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, রপ্তানি চাহিদা অনুযায়ী জাত নির্বাচন, ফাইটোস্যানিটারি পদ্ধতি ও আমদানিকারক দেশের উত্তম কৃষি চর্চা মেনে আম উৎপাদন, সার্টিফিকেশন, উন্নত প্যাকিং, বিমান বন্দরে কার্গো ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থাপ্রধান, আমচাষি, ব্যবসায়ী, শাকসবজি ও ফল রপ্তানিকারক এবং প্রাণ গ্রুপ, স্কয়ার ফুড, এসিআই, আকিজ ফুড, ব্র্যাক ডেইরিসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 comments on “দেশের আমকে ব্যাপকভাবে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যেতে চাই: কৃষিমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ