Tuesday, 28 April, 2026

কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষিঋণে ধীরগতি, কৃষিঋণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত


দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কৃষি ঋণ দেয়া হয়। মাঝে মাঝে এ জন্য সরকারি বরাদ্দও থাকে। দেশের অনেক জেলায় বিতরিত হচ্ছে কৃষি ঋণ। কিন্তু কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষিঋণে ধীরগতি বেশ লক্ষণীয়। ব্যাংকগুলোতে কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে তেমন কোন গতি নেই। এতে ব্যাংকগুলোতে অলস তারল্য বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলা হয়েছে জেলা কৃষিঋণ কমিটির মাসিক সভায়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলায় ব্যবসারত ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

কয়েকটি ব্যাংক এই জেলায় একেবারেই ঋণ বিতরণ করেনি বলে এতে জানানো হয়।

আরো পড়ুন
সুনামগঞ্জে ওপরের পানিতে মোনাই নদীর তীর ধস, ইরানবিল হাওরে পানি প্রবেশ, ফসলের ক্ষতি
মোনাই নদীর তীর ধসে ইরানবিল হাওরে পানি ঢুকছে, ধানক্ষেতের আংশিক ক্ষতি—সুনামগঞ্জের মোহনগঞ্জ

সুনামগঞ্জের মোহনগঞ্জ উপজেলায় উজানের প্রবল স্রোতের চাপে মোনাই নদীর তীরবর্তী অংশ ধসে ইরানবিল (ইকরছাই) হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে Read more

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় দ্বিগুণ দামে ইউরিয়া সার আমদানি করছে ভারত, আশঙ্কা বৈশ্বিক সংকটের
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইউরিয়া আমদানিতে ভারতের খরচ দ্বিগুণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সার আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দিতে শুরু করেছে ভারত। সরকারি সূত্রে জানা Read more

সেই সাথে কৃষি ঋণের প্রতি ব্যাংকগুলোর অনীহার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

কুড়িগ্রাম জেলায় ১৮টি ব্যাংক ব্যাবসা করছে।

তাদের শাখা গুলোতে দিন দিন অলস তারল্য বাড়ছে বলে জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

কিন্তু সকল ব্যাংকের বিপরীতে কৃষি ঋণ দেবার অবস্থা খুবই কম।

অনেক ব্যাংক একেবারেই দিচ্ছে না কৃষি ঋণ।

জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভায় জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলার চাষিদের জন্য ব্যাংকগুলোর বরাদ্দ ছিল।

কেবল মসলাজাতীয় পণ্য উৎপাদনে ১৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল ব্যাংকগুলোর।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক এক লাখ টাকা বিতরণ করেছে।

কিন্তু ব্যবসারত বাকি ১৭টি ব্যাংক এর একটিও তা করেনি।
কৃষিঋণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোয় জোর দেয়া হয় এই অনুষ্ঠানে।

এই অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জিলুফা সুলতানা।

তিনি জানান, কৃষকদেরকে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি জানাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে।

জেলার ৭৩টি ইউনিয়ন, তহশিল অফিস ও হাটবাজারে প্রচারমূলক পোস্টার প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সব ব্যাংককে সাথে সাথে আরও গতিশীল হতে হবে কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে।

আবার কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাংক সমূহের যে অনীহা তা দূর করতে হবে।

এগিয়ে আসতে হবে ব্যা্ংক গুলোকে।

সভায় অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক বায়েজিদ মো. আশরাফুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, তাঁরা ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রা পেয়েছিলেন।

এর বিপরীতে তারা ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করেছেন।

সে হিসেবে তাদের ঋণ বিতরণের হার ১৯ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক নকুল কুমার।

তাছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের কুড়িগ্রাম শাখার ম্যানেজার ফুলজার হোসেন, রূপালী ব্যাংকেরম্যানেজার মর্তুজা সাইফুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 comments on “কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষিঋণে ধীরগতি, কৃষিঋণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ