Sunday, 11 October, 2026

কচুর মুখিতে সাফল্য পেয়েছে গাইবান্ধার কৃষকেরা


কচুর মুখিতে সাফল্য পেয়েছে গাইবান্ধার চার উপজেলার কৃষকরা। এ জাতের কচু চাষ করে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায়  পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করেছেন তারা। পাশাপাশি আর্থিকভাবে তারা লাভবান হচ্ছেন। আর শত শত নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে কচু প্রক্রিয়াজাত কাজে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুসারে এবার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে কচুর মুখি চাষ হয়েছে এ জেলায়।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুসারে গাইবান্ধার মাটি ও আবহাওয়া কচুর মুখি চাষের উপযোগী। বিশেষ করে সাঘাটা, গোবিন্দঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার  মাটি ও আবহাওয়া খুব উপযোগী। কচুর মুখি চাষাবাদে খরচ অনেক কম। তাই ৪ উপজেলার প্রায় ২ হাজার কৃষক এবার কচুর মুখি চাষ করেছেন। মহিমাগঞ্জ, পবনাপুর, জামালপুর, কিশোরগাড়ি, গাইবান্ধার বোয়ালীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকেরা এবার কচুর মুখি চাষ করেছেন।

আরো পড়ুন
খরগোশ (Rabbit) পালনে রোগ বালাই: লক্ষণ, কারণ ও সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি
খরগোশ পালনে কমন রোগ বালাই, যেমন—মাইটস, চোখের রোগ, কানের সমস্যা ও পেটের চর্মরোগ

সহজ লালন-পালন ও দ্রুত প্রজনন ক্ষমতার কারণে আমাদের দেশে খরগোশ পালন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে সঠিক পরিচর্যার অভাব Read more

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘বাসাভা পেট সামিট’ এ উন্মোচিত হলো এসিআই-এর কৃমিনাশক ‘Prazinex

পোষা প্রাণী প্রেমী, ভেটেরিনারিয়ান এবং প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে দেশে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাসাভা পেট সামিট’ Read more

আগের চেয়ে অনেক ভালো ফলনও হয়েছে। গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজ আর সবুজ কচু পাতা দেখা যায়। কেউ কেউ মাটির নিচ থেকে হাতড়িয়ে কচু উত্তোলন করছেন, আবার বাজারজাত করতে মাটি পরিষ্কার করছেন অনেকে। আবার পানিতে ধুয়ে বিক্রি করছেন।

গ্রামের কচু চাষিরা জানান, ৪ বিঘা জমিতে এবার কচু চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকা খরচ হলেও তা বিক্রি হবে অন্তত ৪০ হাজার টাকা।

পলাশবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, কয়েকটি ইউনিয়নে কচুর চাষ হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কচুর পাইকার বা ক্রেতা আসেন ট্রাক নিয়ে কেনার জন্য।

সাদুল্লাপুরের রসুলপুর ইউনিয়নের কচু চাষি জানান, এসব কচু তোলা, ধোয়া থেকে প্রক্রিয়াকরণ কাজে শত শত নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে । তারা বাড়ির কাজ শেষ করে বাড়তি সময়ে দিনে ১ থেকে ২ মণ কচু পরিষ্কার করতে পারেন। এতে দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ টাকা আয় করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্প্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন মো. মাসুদার রহমান। তিনি বলেন, চার উপজেলার উৎপাদিত কচু জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌছে যাচ্ছে এই কচু। এ ধরনের কচু চাষে কৃষকরা লাভবান হবার কারণে এবার জেলায় কচু চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অল্প খরচে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জেলার সবজি চাহিদা পুরণ হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন এ কর্মকর্তা।

0 comments on “কচুর মুখিতে সাফল্য পেয়েছে গাইবান্ধার কৃষকেরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ