Monday, 18 May, 2026

মুরগির দাম বাড়ছেই


গত দেড় মাসে মুরগির দাম ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে সোনালি জাতের মুরগির দাম সবচাইতে বেশি বেড়েছে। উৎপাদন কম ও চাহিদা বাড়ায় বেশি দামে মুরগী কিনতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা যা এক মাস আগেও ছিলো ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। মধ্য জানুয়ারিতে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি। গত মাসে সোনালি মুরগি পাওয়া যেত ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। এর আগে ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে দেশে খুচরায় ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। গত বছর এই সময় ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

আরো পড়ুন
গোখাদ্যের চড়া দামে কোরবানির পশুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা
গাইবান্ধায় এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের চড়া দাম ও ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগে খামারিরা।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান জেলা গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের চড়া দাম Read more

বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে পরিকল্পিত মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার: কৃষিমন্ত্রী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয় কাজে লাগিয়ে মাছ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নতুন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লেক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এই অব্যবহৃত জলাশয়গুলো কাজে লাগাতে পারলে Read more

বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বিপিকেআরজেপি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ (পিপিবি) সূত্রে জানা যায়, গতকাল ঢাকার আশপাশের খামারগুলোতে ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১২৩ থেকে ১২৫ টাকা কেজি। মাসখানেক আগেও ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি। ১৫ জানুয়ারি খামারগুলোতে ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১০৫ টাকা কেজি। অর্থাৎ খামারপর্যায়ে দেড় মাসে ব্রয়লারের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমানে খামারপর্যায়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি, যা এক মাস আগেও ছিল ১৯০ টাকা কেজি। মধ্য জানুয়ারিতে অর্থাৎ মাস দেড়েক আগে খামারপর্যায়ে সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি। অর্থাৎ দেড় মাসে এই জাতের মুরগির দাম বেড়েছে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত।

খামারিরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বাড়ার ফলে পোল্ট্রি খাদ্যের প্রধান কাঁচামাল সয়ামিলের দাম কেজিতে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এতে গড়ে খাদ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। উৎপাদন কম হওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোহসীন বলেন, সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি থাকে। এতে ৭ থেকে ৮ শতাংশ মুরগির চাহিদা বাড়ে। এবার করোনার কারণে আটকে থাকা অনুষ্ঠানগুলো একযোগে শুরু হওয়ায় মুরগির চাহিদা বেড়েছে ১৫-১৬ শতাংশ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বাড়তি থাকায় পোল্ট্রি খাবারের দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ টাকা। আগে গড়ে ৪২ টাকায় খাবার পাওয়া গেলেও এখন লাগছে ৪৭ টাকার ওপর। এ ছাড়া শীতের সময় আবহাওয়ার কারণে মুরগির গড় ওজনও কম বেড়েছে। সব মিলিয়ে বাড়তি চাহিদা, জোগানে ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায় মুরগির বাজার চড়ছে। তবে মার্চের মাঝামাঝি দাম কমে আসতে পারে।

0 comments on “মুরগির দাম বাড়ছেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ