Thursday, 15 October, 2026

সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে অভিযোগ কৃষকের, সংকটের কথা বলছেন ডিলার-বিক্রেতা।


ট্রিপল সুপার ফসফেট যা টিএসপি সার নামে পরিচিত, ফসলের জন্য এক অন্যতম প্রয়োজনীয় সার। সেই টিএসপি সার অধিক দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। কৃষকদের  অভিযোগ যে, প্রতি বস্তা টিএসপি সারে কমপক্ষে ২৪০-২৬০  টাকা বেশি নিচ্ছে তারা। অন্যদিকে ডিলাররা এই সারে সংকট দেখাচ্ছে। আর এই অভিযোগ করেছেন পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষকেরা।

সারের ডিলাররা একাগ্র ভাবে জানালেন যে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম রয়েছে টিএসপি সারের। আবার একই সাথে কদিন ঈদের ছুটিতে পরিবহন সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সার আসেনি। এই কারণে সারের বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে তারা দাবি করেন যে সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে  টিএসপি বিক্রি করছেন না তাঁরা। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কৃষি বিভাগ থেকে খোজ নিয়ে জানা যায় যে  জেলায় বর্তমানে সারের কোন  সংকট নেই।

কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন যে, সার কেনার সময়  বিক্রেতারা সংকটের দোহাই দিয়ে দাম বেশি  দিলেই তবে সার বের করে দিচ্ছেন। কিছু কিছু ডিলার কেবলমাত্র দেখানোর জন্য দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রেখেছেন ঠিকই তবে সেই অনুযায়ী বিক্রি করছেন না আবার রসিদ চাইলেও দিচ্ছেন না।

আরো পড়ুন
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার

রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৫০ টাকার পটাশিয়াম (এমওপি) ও ডিএপি সার কেনার Read more

কক্সবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান চাষ
কক্সবাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান চাষ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। ফলে স্বাভাবিক কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকায় Read more

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে বলা হয় যে, সরকারী আদেশ অনুসারে  বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) টিএসপি সারের সর্বোচ্চ  দাম ১১০০, ইউরিয়া সারের ৮০০ ও এমওপি সার যা মিউরেট অব পটাশ নামে পরিচিত তা ৭৫০ টাকা করে বিক্রয় করতে হবে।

সূত্র থেকে আরও জানা যায় যে, চলতি মৌসুমে শুধু জুলাই মাসে জেলায় ৩১২০ মেট্রিক টন টিএসপি সারের চাহিদার স্বাপেক্ষে সরকারি বরাদ্দ ১০৮৬ মেট্রিক টন। সেই বরাদ্দ হতে  গত বুধবার পর্যন্ত ডিলারদের মোট উত্তোলন ছিল ৮৪৪ মেট্রিক টন। সেরকম ৩০৬৬ মেট্রিক টন ডিএপি সারের চাহিদার বিপরীতে সরকার বরাদ্দ করেছে ১১৫০ মেট্রিক টন যা উত্তোলন করা হয়েছে ১০৬৪ মেট্রিক টন।পঞ্চগড়  জেলার  প্রায় ৪৭ জন বিসিআইসি ডিলার  রয়েছেন আর ১৬০ জন বিএডিসির ডিলার আছেন যাদের মাধ্যমে এসব সার বিক্রি করা হয়ে থাকে।

এ বছর আমন মৌসুমে  পঞ্চগড় জেলায় ৯৯৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে যা  গতকাল পর্যন্ত  ৮৬ শতাংশ পূরন হয়েছে বলে অধিদপ্তর জানায়। গত বুধবার পর্যন্ত জেলার মজুদ তালিকায় ১৬০ মেট্রিক টন টিএসপি, ২০৩ মেট্রিক টন ডিএপি মজুত ছিল।

সদর ইউনিয়নের বালিয়াপাড়ার একজন কৃষক  বলেন, মঙ্গলবার পঞ্চগড় শহরের এক ডিলারের কাছে টিএসপি ও পটাশ কিনতে গেলে টিএসপি সার নেই বলে জানিয়ে দেন। পরে বেশি দামের বিনিময়ে তিনি দুই বস্তা সার কিনতে পারেন। এতে দাম গুনতে হয় নগদ ২১১০ টাকা।  তবে তাঁরা কোনো রসিদ দেয়নি।

একজন সার ব্যবসায়ী বলেন, অনেক সময় ডিলারদের কাছ থেকে বাকিতে মাল নিতে হয় বলে বেশি দাম নিলেও তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলতে পারেন না তারা।

প্রশ্ন করা হলে পঞ্চগড় জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন  ঈদের ছুটির কারনে যথেষ্ট পরিবহন সুবিধা না থাকায় বাজারে সারের সংকট রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম কোন ক্রমেই নেওয়া হচ্ছে না।

0 comments on “সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে অভিযোগ কৃষকের, সংকটের কথা বলছেন ডিলার-বিক্রেতা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ