Saturday, 02 May, 2026

পাহাড়ে বারি-৪ লাউ চাষে সাফল্য: কাপ্তাইয়ের রাইখালী গবেষণা কেন্দ্রে বাম্পার ফলন


লাউ চাষের বাম্পার ফলন

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলাস্থ রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (পিএআরএস) বারি-৪ জাতের লাউ চাষে বড় ধরনের সাফল্য লাভ করেছে। যদিও গবেষণা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই জাতের লাউ চাষ করে আসছিল, তবে এবারই প্রথম তারা ব্যাপক আকারে ও সফল ফলন নিশ্চিত করতে পেরেছে।

বিস্তীর্ণ মাচায় লাউয়ের সমাহার

জানা যায়, পাহাড়ে চাষ উপযোগী ফসল ও কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় রাইখালী ইউনিয়নে প্রায় ১০০ একর জমিতে এই গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ফসল নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চালায় প্রতিষ্ঠানটি।

আরো পড়ুন
বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়: একটি জরুরি নির্দেশিকা
বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়: একটি জরুরি নির্দেশিকা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে Read more

ভাইরাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মিরসরাইয়ে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসান, ক্ষতির মুখে কৃষক
ভাইরাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মিরসরাইয়ে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসান, ক্ষতির মুখে কৃষক

চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় তরমুজ চাষে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ও আগত কৃষকেরা। ভাইরাসের আক্রমণ, প্রতিকূল Read more

সম্প্রতি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকার মাচাজুড়ে শোভা পাচ্ছে বারি-৪ জাতের লাউ গাছ। সারি সারি লাউ ঝুলছে, যা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি পরিপক্ব।

বারি-৪ লাউয়ের বিশেষত্ব

গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, এই জাতের লাউয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ সহনশীল এবং সারাবছর চাষ করা যায়। তাই পার্বত্য অঞ্চলে চাষের জন্য এটি একটি অত্যন্ত উপযোগী জাত।

  • ফলের বৈশিষ্ট্য: লাউগুলো গাঢ় সবুজ রঙের এবং গায়ে সাদাটে দাগ থাকে।

  • ফলন: প্রতিটি গাছে সাধারণত ১০-১২টি ফল পাওয়া যায়।

  • ওজন ও আকার: এর গড় ওজন প্রায় আড়াই কেজি। লাউগুলো লম্বায় ৪২-৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১২-১৩ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।

  • ফসল সংগ্রহের সময়: চারা রোপণের মাত্র ৭০-৮০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছের জীবনকাল থাকে ১৩০-১৫০ দিন।

  • হেক্টর প্রতি ফলন: প্রতি হেক্টরে ফলন হয় ৮০-৮৫ টন

ড. জিয়াউর রহমান আরও জানান, জাতটি তাপসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকেরা বছরজুড়ে এটি চাষ করে লাভবান হতে পারেন। বাংলাদেশের সব এলাকার পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলেও এই জাতটি চাষ করার জন্য খুবই উপযোগী।

বীজ ও চারা সরবরাহের উদ্যোগ

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য ফাল্গুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে এর চাষ শুরু করা যায়। এছাড়া, চৈত্র মাসে বীজ বপন করে বৈশাখ মাসে চারা রোপণ করাও সম্ভব।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে গবেষণা কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণে বীজের সংগ্রহ আছে। স্থানীয় চাষিরা চাইলে বিনা মূল্যে গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই বীজ অথবা চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।

0 comments on “পাহাড়ে বারি-৪ লাউ চাষে সাফল্য: কাপ্তাইয়ের রাইখালী গবেষণা কেন্দ্রে বাম্পার ফলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ