বাংলাদেশে গরু পালন করে লাভবান হওয়াটা মূলত আপনার উদ্দেশ্য, পুঁজি এবং বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। লাভবান হওয়ার জন্য সাধারণত তিনটি প্রধান খাত রয়েছে:
১. দুধের জন্য গাভী পালন (Dairy Farming)
আপনি যদি প্রতিদিন নগদ টাকা আয় করতে চান, তবে গাভী পালন সেরা। এক্ষেত্রে ভালো জাতের গাভী নির্বাচন করলে দৈনিক ১৫-৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া সম্ভব।
সেরা জাত: হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান (Holstein Friesian) বা জার্সি (Jersey)। দেশী জাতের মধ্যে শাহীওয়াল বা পাবনা ব্রিড ভালো।
সুবিধা: প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে আয় করা যায়। বাছুর বড় হলে সেটিও একটি সম্পদ।
চ্যালেঞ্জ: খাবারের খরচ বেশি এবং নিয়মিত যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।
২. কোরবানির বাজার লক্ষ্য করে মোটাতাজাকরণ (Beef Fattening)
অল্প সময়ে (৩ থেকে ৬ মাস) দ্রুত লাভ করতে চাইলে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি।
সেরা জাত: শাহীওয়াল (Sahiwal), ব্রাহামা (Brahman) ক্রস বা উন্নত জাতের দেশী ষাঁড়।
সুবিধা: ঈদের সময় একসাথে মোটা অংকের টাকা হাতে আসে। সারা বছর ঘাস-খড় খাইয়ে বড় করে ঈদের ২-৩ মাস আগে বিশেষ যত্ন নিলে ভালো লাভ হয়।
চ্যালেঞ্জ: সঠিক সময়ে এবং সঠিক দামে বাছুর কেনাটা এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
৩. বাছুর উৎপাদন (Breeding)
অনেকে শুধু ভালো জাতের বাছুর উৎপাদনের জন্য পালন করেন।
সেরা জাত: উন্নত জাতের গাভীকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শাহীওয়াল বা ফ্রিজিয়ান বাছুর উৎপাদন।
সুবিধা: একটি উন্নত জাতের বাছুর মাত্র ১ বছরেই ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
লাভবান হওয়ার মূল মন্ত্র (টেবিল)
| বিষয় | করণীয় |
| জাত নির্বাচন | সবসময় উন্নত ক্রসব্রিড গরু বাছাই করবেন। |
| খাবার খরচ | কেনা খাবারের চেয়ে কাঁচা ঘাস চাষ করলে খরচ অনেক কমে আসে। |
| টিকাদান | এফএমডি (খুরা রোগ) এবং তড়কা রোগের টিকা সময়মতো দিতে হবে। |
| বাসস্থান | গরুর ঘর শুকনো এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসপূর্ণ হতে হবে। |
পরামর্শ:
আপনি যদি নতুন খামারি হন, তবে ৩-৪টি শাহীওয়াল বা দেশী উন্নত জাতের ষাঁড় দিয়ে ‘মোটাতাজাকরণ’ শুরু করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে ঝুঁকি কম এবং অভিজ্ঞতা দ্রুত হয়।

