Wednesday, 28 January, 2026

জামানত ছাড়াই ৫ একর পর্যন্ত শস্য ঋণ: কোন ফসলে কত টাকা পাবেন কৃষকেরা?


দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে ‘শস্য ঋণ’ দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক। ৫ একর পর্যন্ত জমির আবাদের জন্য কোনো জামানত ছাড়াই এই ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন প্রান্তিক চাষি ও বর্গাচাষিরা।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বার্ষিক মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই কৃষিঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনে সব ধরনের মৌসুমি ফসলের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।

কোন ফসলের জন্য কত ঋণ?

আরো পড়ুন
বস্ত্র খাতে চরম বিপর্যয়: সুতার আমদানিশুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব কারখানা বন্ধ?
বস্ত্র খাতে চরম বিপর্যয়: সুতার আমদানিশুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব কারখানা বন্ধের আলটিমেটাম

দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতে এক অভূতপূর্ব সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি করা সুতার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে Read more

ভেনামি চিংড়ি চাষে স্থগিতাদেশ: রপ্তানি খাতে ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্তের আশঙ্কা
ভেনামি চিংড়ি চাষে নিষেধাজ্ঞা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি (Vannamei) চিংড়ি চাষের অনুমতি মিললেও, পোনা আমদানিতে সরকারের সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে Read more

শস্য ঋণের ক্ষেত্রে ফসলভেদে ঋণের সীমার পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত এক বছর মেয়াদী এই ঋণের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

ফসলের নামপ্রতি একরে ঋণের পরিমাণসর্বোচ্চ জমির সীমামোট ঋণের পরিমাণ (সর্বোচ্চ)
বোরো ধান৭৬,৭৯০ টাকা৫ একর৩,৮৩,৯৫০ টাকা
আলু৭৫,৬০০ টাকা২.৫ একর১,৮৮,৭৫০ টাকা
কলা১,৩৩,৮৫০ টাকা৫ একর৬,৬৯,২৫০ টাকা

সুদের হার ও যোগ্যতা

বর্তমানে এই ঋণের জন্য ১২ শতাংশ সুদের হার নির্ধারিত রয়েছে, তবে এটি সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

  • কারা পাবেন: জমির প্রকৃত মালিক এবং বর্গাচাষি—উভয়ই এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

  • সুবিধা: প্রত্যেক ঋণগ্রহীতাকে একটি করে ‘ক্রেডিট পাসবুক’ দেওয়া হয়।

আবেদন পদ্ধতি: মাত্র ১-২ সপ্তাহে মিলবে টাকা

কৃষিঋণ গ্রহণ এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। উপজেলা কৃষি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে আবেদন করা যাবে।

১. প্রয়োজনীয় কাগজ: তেমন কোনো জটিল নথিপত্র লাগে না। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সাথে নিয়ে গেলেই চলে।

২. সহযোগিতা: ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তারাই আবেদন ফরম পূরণ করে প্রক্রিয়া শেষ করে দেন।

৩. সময়: আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই ঋণের টাকা কৃষকের হাতে পৌঁছে যায়।

কৃষি ব্যাংকের অনুষদ সদস্য মুহাম্মদ মাছুদুর রহমান জানান, বর্তমানে বোরো ধান, কলা ও আলু আবাদে চাষিরা সবচেয়ে বেশি ঋণ নিচ্ছেন এবং দেশের যেকোনো ইউনিয়ন থেকে কৃষিকাজের জন্য এই ঋণ গ্রহণ সম্ভব।

চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১১,৯২৭ কোটি টাকা।

  • মোট ঋণের ৪৭ শতাংশই দেওয়া হয়েছে শস্য খাতে।

  • পশুপালন ও পোলট্রি খাতে দেওয়া হয়েছে ২৭ শতাংশ।

এছাড়া মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সেচ যন্ত্রপাতি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং শস্য বাজারজাতকরণের জন্যও বিশেষ কৃষিঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহজলভ্য ঋণ ব্যবস্থার ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা এনজিওর চড়া সুদের হাত থেকে রক্ষা পাবেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

0 comments on “জামানত ছাড়াই ৫ একর পর্যন্ত শস্য ঋণ: কোন ফসলে কত টাকা পাবেন কৃষকেরা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ