
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি (Vannamei) চিংড়ি চাষের অনুমতি মিললেও, পোনা আমদানিতে সরকারের সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BFFEA)। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এটি এই খাতের বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করেছে।
সংকটের মূলে কী?
গত ৭ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক সভায় দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি (বাগদা ও গলদা) উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভেনামি চিংড়ির পোনা আমদানির সকল নতুন ও বিদ্যমান অনুমোদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রপ্তানিকারকদের মূল আপত্তি
BFFEA-এর পক্ষ থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
বিনিয়োগ ঝুঁকি: উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। হুট করে পোনা আমদানি বন্ধ হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানে পড়বেন।
রপ্তানি বাজারে পিছিয়ে পড়া: বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ভেনামি প্রজাতির। ৭২ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব খুবই নগণ্য। বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার পথেই এই বাধা রপ্তানি আয়ে ধস নামাবে।
কারখানার সক্ষমতা অপচয়: কাঁচামালের অভাবে দেশের ফ্রোজেন ফুড কারখানাগুলোর মাত্র ১২ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে। ভেনামি চাষ বন্ধ থাকলে এই সংকট আরও তীব্র হবে।
নীতির ধারাবাহিকতাহীনতা: ২০২৩ সালে পাইলট প্রজেক্টের সফলতার পর সরকার যখন বাণিজ্যিক চাষের অনুমতি দিয়েছিল, তখন হঠাৎ এই স্থগিতাদেশকে ‘পলিসি ইনকন্সিস্টেন্সি’ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
সরকারের অবস্থান বনাম বাস্তবতা
সরকার মূলত দেশি প্রজাতির (বাগদা ও গলদা) ঐতিহ্য রক্ষা এবং বিদেশি প্রজাতির মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে রপ্তানিকারকদের মতে, ২০ বছর ধরে দেওয়া ‘রোগ সংক্রমণের’ এই অজুহাত বৈজ্ঞানিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। আমদানির বিকল্প কোনো রোডম্যাপ ছাড়া এমন কঠোর সিদ্ধান্ত পুরো চিংড়ি শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এক নজরে পরিসংখ্যান
| বিষয় | তথ্য/পরিসংখ্যান |
| বিশ্ববাজারে ভেনামির চাহিদা | প্রায় ৮০% |
| বিশ্ব বাজারের আকার | ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি ব্যবহার | মাত্র ১২% (কাঁচামালের অভাবে) |
| স্থগিতাদেশের তারিখ | ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ |
সহজ কথায় বলতে গেলে, যখন বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল জাতের প্রয়োজন, তখন দেশীয় প্রজাতির সুরক্ষার দোহাই দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা হতে পারে।


মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম
January 27, 2026 at 11:19 amসরকারের সুমতি হউক