
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য, গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সরকার। খামারি ও হ্যাচারি মালিকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট (ছাড়) দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ও বরাদ্দ
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে ১৬টি খাতে এই বিদ্যুৎ রিবেট সুবিধা চালু রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যে সব খাত ২০% বিদ্যুৎ ছাড় পাবে:
নতুন এই নির্দেশনার ফলে মূলত ৪টি বৃহৎ উপ-খাত সরাসরি উপকৃত হবে:
খাদ্য উৎপাদন শিল্প: গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খাদ্য এবং ফিস ফিড (মাছের খাবার) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
পোল্ট্রি শিল্প: বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার ও সংশ্লিষ্ট হ্যাচারি।
দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ: দুধ পাস্তুরিতকরণ ও গুঁড়ো দুধ উৎপাদন।
দুগ্ধজাত পণ্য: আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, মিষ্টান্ন, পনির, ঘি, মাখন, চকলেট ও দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রত্যাশিত প্রভাব
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ভর্তুকির ফলে: ১. প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ২. প্রাণিজ আমিষের (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। ৩. কৃষি ও ডেইরি শিল্পে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। ৪. নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষ উৎপাদনে দেশ আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সুবিধা গ্রহণের জন্য খামারিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এই রিবেট সরাসরি বিলে সমন্বয় করা হবে।

