
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার প্রদান করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘উরালচেম’ (Uralchem) আজ ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
বৈশ্বিক সংকটে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও সার সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব আমাদের কৃষি খাতে প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার এই উদ্যোগ গঠনমূলক বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
বিএডিসির রেকর্ড সার মজুত
কৃষি উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) কাছে বর্তমানে ১০ দশমিক ৩৫ লাখ টন নন-ইউরিয়া সারের মজুত রয়েছে। ১৯৬১ সালে বিএডিসি প্রতিষ্ঠার পর এটিই সারের সর্বোচ্চ মজুত। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তায় খনিজ সারের ভূমিকা
উরালচেম জেএসসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিমিত্রি কোনিায়েভ বলেন, ফসলের স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ফলন নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে খনিজ সার অত্যন্ত মৌলিক ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান সার উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী হিসেবে উরালচেম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।
রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার বলেন, এই সার হস্তান্তর দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই অবদান বাংলাদেশের কৃষকদের শক্তিশালী করবে এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থার সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
কৃষি উৎপাদনে অর্জিত সাফল্য
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিগত তিন বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত অর্থবছরের তুলনায় চালে ৬ শতাংশ, আলুতে ১৪ শতাংশ, পেঁয়াজে ২২ শতাংশ, সবজিতে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং সরিষার উৎপাদনে রেকর্ড ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
কৃষি সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডেভিড থমাস এবং উরালচেম-এর গ্লোবাল হেড অব সেলস দিমিত্রি বলডিরেভ উপস্থিত ছিলেন।

