
ময়মনসিংহ আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আসন বিন্যাস সহজতর করতে ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ (BAU Exam Hall Finder) নামে একটি ডিজিটাল সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন। বিশাল এই ক্যাম্পাসে পরীক্ষার্থীদের সিট খুঁজে পাওয়ার ভোগান্তি দূর করতে এবার প্রথাগত হেল্প ডেস্কের পরিবর্তে এই প্রযুক্তিগত সমাধানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্ভাবনী ব্যবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়।
যেভাবে কাজ করবে এই সিস্টেম
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ একটি ওয়েবভিত্তিক সিস্টেম। পরীক্ষার্থীরা গুগল ক্রোমে গিয়ে এটি সার্চ করলে সহজেই খুঁজে পাবেন। সিস্টেমে নিজের রোল নম্বর ইনপুট দিলেই সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা হলের প্রধান ফটকের ছবি দেখা যাবে। একই সঙ্গে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থান থেকে সবচেয়ে কম সময়ে হলের পৌঁছানোর দিকনির্দেশনাও (নেভিগেশন) পাওয়া যাবে।
হেল্প ডেস্কের বিকল্প এই অ্যাপ
প্রতি বছর বিভিন্ন জেলা সমিতি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্পাসে হেল্প ডেস্ক বসিয়ে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করলেও এবার কোনো সংগঠনকে এই অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরিবর্তে আইসিটি সেলের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, “পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অ্যাপে ছবিসহ কেন্দ্র চেনার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মোড়ে কিউআর কোড সংবলিত ফেস্টুন থাকবে। কোনো পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র আনতে ভুলে গেলে বা যান্ত্রিক সমস্যায় পড়লে আইসিটি সেল সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করবে।”
অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, “বিশাল এই ক্যাম্পাসে সিট খুঁজে পাওয়ার দুশ্চিন্তা দূর করতে আমাদের শিক্ষার্থীরা এই অ্যাপের মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে, যা দেশের যেকোনো ক্যাম্পাসের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সিট খুঁজে পেতে যে বিড়ম্বনায় পড়েছিল, এই ডিজিটাল উদ্ভাবন সেই পেরেশানি দূর করে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এবং অ্যাপ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীবৃন্দ। ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল সেবাটি কৃষি গুচ্ছভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

