গরুর পেট ফাঁপা (Bloat) একটি জরুরি অবস্থা। গরু যদি অতিরিক্ত কাঁচা ঘাস, দানাদার খাবার বা পচা খাবার খেয়ে ফেলে, তবে পেটে গ্যাস জমে এই সমস্যা হয়। পেট বেশি ফেঁপে গেলে গরু শ্বাসকষ্টে মারাও যেতে পারে।
অবস্থা খুব বেশি গুরুতর না হলে আপনি দ্রুত নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করতে পারেন:
১. ঘরোয়া প্রতিষেধক মিশ্রণ
নিচের উপাদানগুলো মিশিয়ে গরুকে খাইয়ে দিলে দ্রুত গ্যাস বের হতে শুরু করবে:
সরিষার তেল: ২৫০-৫০০ মিলি (গরুর আকার ভেদে)। এটি পেটের গ্যাসের বুদবুদ ফাটিয়ে দিতে সাহায্য করে।
আদা ও কালোজিরা: ৫০ গ্রাম আদা বাটা এবং ২০ গ্রাম কালোজিরা গুঁড়ো করে পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ান।
খাবার সোডা (Baking Soda): ৫০-১০০ গ্রাম সোডা এক লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়ালে এসিডিটি কমে।
বিট লবণ বা সাধারণ লবণ: ২০-৩০ গ্রাম লবণ মিশ্রণে যোগ করতে পারেন।
২. তাৎক্ষণিক কিছু কৌশল
হাঁটাহাঁটি করানো: গরুকে এক জায়গায় বসতে না দিয়ে আস্তে আস্তে ২০-৩০ মিনিট হাঁটান। এতে অন্ত্রের নাড়াচাড়া বাড়ে এবং গ্যাস বের হতে সুবিধা হয়।
মুখে লাঠি বাঁধা: গরুর মুখের আড়াআড়িভাবে একটি নরম কাঠের লাঠি বা মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে দিন (লাগামের মতো)। এতে গরু অনবরত মুখ নাড়াবে এবং প্রচুর লালা তৈরি হবে, যা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে।
পেট মালিশ: গরুর পেটের বাম পাশ (যেখানে ফোলা বেশি) হাত দিয়ে জোরে জোরে ওপর থেকে নিচের দিকে মালিশ করুন।
৩. পানীয় ওষুধ (যদি হাতের কাছে থাকে)
যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজ না হয়, তবে দ্রুত নিচের যেকোনো একটি লিকুইড ওষুধ খাওয়াতে পারেন:
Tympanil (টিম্পানিল)
Digene/Afanil
Anflat (মাত্রা: গরুর ওজন অনুযায়ী ১০০-২০০ মিলি)।
কখন ডাক্তার ডাকবেন?
যদি গরুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হয়।
যদি গরু বারবার শুয়ে পড়ে এবং যন্ত্রণায় ছটফট করে।
যদি বাম পাশের পেট ড্রামের মতো শক্ত হয়ে যায় এবং হাত দিয়ে টোকা দিলে ‘ঢপ ঢপ’ শব্দ হয়।
সতর্কতা: পেট ফাঁপা অবস্থায় গরুকে ভুলেও শুয়িয়ে রাখবেন না, এতে ফুসফুসে চাপ লেগে গরু মারা যেতে পারে। সবসময় দাঁড় করিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

