Saturday, 10 January, 2026

সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিয়ে সংশয় রয়েছে দিনাজপুরে


দিনাজপুরে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে চলতি মৌসুমে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিয়ে খাদ্য বিভাগ শংকিত থাকলেও উল্টোটা চালের বেলায়। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে খাদ্য বিভাগ।

গত বছরের ৭ নভেম্বর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আমন ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ শুরু হয়।

এই সময় চাল প্রতিকেজি ৪০ টাকা এবং ধান প্রতিকেজি ২৭ টাকা দরে নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

আরো পড়ুন
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় বাকৃবির ডিজিটাল উদ্ভাবন ‘হল ফাইন্ডার’
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

ময়মনসিংহ আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আসন বিন্যাস সহজতর করতে ‘বাউ এক্সাম হল Read more

আসন্ন রমজানে স্বস্তি: খেজুর আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিল সরকার
খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

ঢাকা আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারদর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক Read more

কিন্তুধান ও চাল উভয়েরই বর্তমান বাজারদর সরকার ঘোষিত দরের চাইতেও অনেক বেশি।

যার ফলাফল হিসেবে ধান-চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে খাদ্য বিভাগ বিপাকে পড়ে গেছে।

চাল সংগ্রহ হলেও সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিয়ে রয়েছে সংশয়
চাল সংগ্রহ হলেও সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিয়ে রয়েছে সংশয়

লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা থাকায় চাল সংগ্রহ হচ্ছে

মিল মালিকদের লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা আছে।

সেকারণে মালিকদের অনেকেই চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করছেন।

কিন্তু কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম।

জেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা সরকার ঘোষিত দরের চেয়ে অনেক বেশি দরে কৃষকের উঠান থেকে ধান নিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে খাদ্য বিভাগে ধান দিতে গেলে নিজ খরচে পৌঁছে দিতে হয়।

সেই সাথে ধানের আদ্রতা ঠিক রাখার পাশাপাশি অফিশিয়াল অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

তাই ধানের ব্যাপারে কৃষকদের অনীহা বাড়ছে।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে যোগযোগ করে জানা যায়, উদ্বোধনের পর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৮৪০ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে।

অথচ ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৪ হাজার ৩২৩ টন।

লক্ষ্যমাত্রার বীপরিতে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

এদিকে ৩৫ হাজার ৩৬০ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৯ হাজার টন।

এতে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবার সম্ভাবনা থাকলেও ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিরল উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান বলেন, ধানের সরকার ঘোষিত মূল্য কেজি প্রতি ২৭ টাকা।

অপরদিকেতার বাড়ির উঠান থেকে ধান ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা  ২৮/২৯ টাকা কেজি দরে ধান নিয়ে যাচ্ছেন।

কোনো ঝামেলাই করতে হচ্ছে না বিধায় তিনি প্রশ্ন রাখেন কেন কম দামে ধান দিবেন তিনি।

দিনাজপুর জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তারা চাল ৭২ শতাংশ ও ধান ১৩ শতাংশ সংগ্রহ করেছি।

তবুও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তারা।

তিনি আরও জানান সরকারঘোষিত দর আর বাইরের বাজারদর কাছাকাছি হলেও মিল মালিকরা সহযোগিতা করছে।

এতে চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তারা সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন।

0 comments on “সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিয়ে সংশয় রয়েছে দিনাজপুরে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ