Sunday, 31 August, 2025

খামারে হাঁসের সংখ্যা হাজার এর বেশি সাংবাদিক ইমনের


রাজধানী ঢাকায় করেন সাংবাদিকতা। এই পেশার পাশাপাশি নিজ এলাকায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে গড়ে তুলেছেন বিশাল মৎস্য ও হাঁসের খামার। এমনটিই সম্ভব করেছেন ইমন। তার খামারে হাঁসের সংখ্যা হাজার এর বেশি। ১২ বিঘা জমিতে সমন্বিতভাবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন দেশি-বিদেশী মাছ। দুই খামারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে । এই খরচের বেশিরভাগই ডিম বিক্রির টাকা থেকে আসে।

কৃষির পটভূমি

ইমনের মন ছোট বেলা থেকেই টানতো কৃষিতে। যদিও ভিন্ন বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন ঠিকই তবে কৃষিভিত্তিক কিছু একটা করার স্বপ্ন ছিল তার। বর্তমানে এই তরুণ উদ্যোক্তা ঢাকায় চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

আরো পড়ুন
কাজু ও কফি: যেভাবে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি

পাহাড়ের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে কাজু বাদাম ও কফি চাষ। একসময় আমদানিনির্ভর এই দুটি ফসল এখন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ Read more

পাবনার শিম চাষিদের মাথায় হাত: অতিবৃষ্টি ও ভাইরাস আক্রমণে ফলন বিপর্যয়

দেশের অন্যতম প্রধান শিম উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা। প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষ হচ্ছে। Read more

তবে হঠাৎ বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে তার চারটি প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে ছিল। কৃষিতে সফলতা এসেছে তার ঠিক তখনই ।

ইমরুল কাওছার ইমন  বাণিজ্যিকভাবে হাঁস ও মাছ চাষের পাশাপাশি ২০১৫ সালে ঢাকার গুলিস্থানে নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটি ছোট্ট শার্ট তৈরির কারখানা শুরু করেন। বর্তমানে ৫০ জনের বেশি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে তার কারখানায়। তাছাড়া শান্তিনগরে একটি ট্রাভেল এজেন্সিও আছে ইমরুল কাওছার ইমনের। তাছাড়া বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাস কিনে রাজধানীতে উবারেও চালান তিনি।

দেশের বিভিন্ন ক্লাব ভিত্তিক টুর্নামেন্টসহ বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়ারদের জার্সি ও গ্যালারিতে ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করেছেন তিনি। এ কাজ করেও সফলতা পেয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের মার্চে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ক্ষতি শুরু হতে থাকে একের পর এক ব্যবসায়। লকডাউনে গার্মেন্টস-কারখানা বন্ধ, উবারের গাড়ির চাকাও ঘোরেনি। বন্ধ হয়ে যায় ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা ও ক্রিকেট ব্র্যান্ডিংও ।

ঠিক তখনই এই হতাশার মধ্যে তার সহধর্মিণী কৃষি ভিত্তিক কিছু করার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে ইমন পরিকল্পনা করেন সমন্বিতভাবে হাঁস ও মাছ চাষের। গড়ে তোলেন ‘হামিদা ডাক এন্ড ফিস ফার্ম’। তার খামার দেখভাল করেন ছোট ভাই নাহিদ আনছারী।

ইমরুল কাওছার ইমনের খামারে চার-পাঁচ জন শ্রমিক কাজ করেন। একটি পুকুরে চাষ করছেন তেলাপিয়া ও থাই জাতের পাংগাস। পানির উপরে বাঁশ ও টিন দিয়ে মাচা বানিয়ে হাঁসের খামার করেছেন তিনি।

আরেকটি পুকুরে চাষ হচ্ছে ভিয়েতনামী কই, হাইব্রিড সিং, বিদেশি মৃগেল, কালিবাউশ, মিরকার্প ও সরপুঁটি এবং অপরটিতে চাষ হচ্ছে দেশী মাছ।

ইমরুল কাওছার ইমন জানান করোনা মহামারিতে সব ব্যবসায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েই গ্রামে এসে কিছু করার চিন্তা থেকেই খামারের পরিকল্পনা করেন।

0 comments on “খামারে হাঁসের সংখ্যা হাজার এর বেশি সাংবাদিক ইমনের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ