
আমের ফলন বৃদ্ধিতে মুকুল টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মুকুল ঝরা মূলত আবহাওয়া, পুষ্টির অভাব, রোগ এবং পোকার আক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। আমের মুকুল ঝরা রোধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ মুকুল ঝরে গেলে ফলনের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মুকুল ঝরা রোধে রোগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য পরিচর্যা জরুরি।
আপনার বাগানের আমের মুকুল ঝরা রোধে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:
১. সঠিক সময়ে সেচ প্রদান
মুকুল আসার আগে সেচ দেয়া ক্ষতিকর হলেও, মুকুল যখন মটরদানার মতো বড় হয়, তখন হালকা সেচ দেওয়া অপরিহার্য। মাটিতে রসের অভাব হলে বোঁটা শুকিয়ে মুকুল ঝরে যায়।
পরামর্শ: মাটি ফেটে গেলে বা খুব শুকিয়ে গেলে গাছের গোড়ায় হালকা সেচ দিন। খুব বেশি পানি দেবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
২. পোকা ও রোগ দমন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
আমের মুকুল ঝরার প্রধান শত্রু হলো হপার পোকা এবং অ্যানথ্রাকনোজ রোগ।
হপার পোকা: এই পোকা মুকুলের রস চুষে নেয়, ফলে মুকুল শুকিয়ে যায়। এটি দমনে ইমিডাক্লোপ্রিড (যেমন- এডমায়ার বা টিডো) গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করুন।
অ্যানথ্রাকনোজ (ছত্রাক): মুকুলে কালো দাগ পড়ে ঝরে গেলে বুঝবেন এটি ছত্রাকের আক্রমণ। এর জন্য ম্যানকোজেব বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন- নোইন বা অটোস্টিন) ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
৩. অনুখাদ্য ও হরমোনের ব্যবহার
মুকুলকে শক্তিশালী করতে এবং ঝরা রোধে ভিটামিন বা হরমোন দারুণ কাজ করে।
বোরন সার: বোরনের অভাবে মুকুল ঝরে যায়। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম সলোবর বোরন মিশিয়ে স্প্রে করলে ফলন ভালো হয়।
পিজিআর (PGR): মুকুল যখন ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হয়, তখন প্লানোফিক্স বা ফ্লোরা জাতীয় হরমোন প্রয়োগ করতে পারেন। এটি বোঁটাকে শক্ত করে।
৪. কিছু সাধারণ সতর্কতা
পুরো ফোটা মুকুলে স্প্রে নয়: যখন ফুল একদম ফুটে থাকে (মৌমাছি যখন বেশি আসে), তখন বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করবেন না। এতে পরাগায়ন ব্যাহত হয়।
কুয়াশা পরিষ্কার: ভোরে কুয়াশা পড়লে মুকুলে পানি জমে ছত্রাক হতে পারে। সম্ভব হলে সাধারণ পরিষ্কার পানি স্প্রে করে কুয়াশা ধুয়ে দিন।

