Tuesday, 27 January, 2026

ভেনামি চিংড়ি চাষে স্থগিতাদেশ: রপ্তানি খাতে ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্তের আশঙ্কা


ভেনামি চিংড়ি চাষে নিষেধাজ্ঞা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি (Vannamei) চিংড়ি চাষের অনুমতি মিললেও, পোনা আমদানিতে সরকারের সাম্প্রতিক স্থগিতাদেশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BFFEA)। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এটি এই খাতের বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করেছে।

সংকটের মূলে কী?

গত ৭ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক সভায় দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি (বাগদা ও গলদা) উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভেনামি চিংড়ির পোনা আমদানির সকল নতুন ও বিদ্যমান অনুমোদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরো পড়ুন
উৎপাদন খরচ কমাতে বড় সুখবর: বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন খামারিরা
বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন খামারিরা

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য, গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সরকার। খামারি ও হ্যাচারি মালিকদের উৎপাদন Read more

রমজানের প্রস্তুতি ৩৫৭ কোটি টাকার তেল ও ১৪৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার
রমজানের সয়বিন ও সারের বাজার

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় Read more

রপ্তানিকারকদের মূল আপত্তি

BFFEA-এর পক্ষ থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:

  • বিনিয়োগ ঝুঁকি: উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। হুট করে পোনা আমদানি বন্ধ হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানে পড়বেন।

  • রপ্তানি বাজারে পিছিয়ে পড়া: বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ভেনামি প্রজাতির। ৭২ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব খুবই নগণ্য। বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার পথেই এই বাধা রপ্তানি আয়ে ধস নামাবে।

  • কারখানার সক্ষমতা অপচয়: কাঁচামালের অভাবে দেশের ফ্রোজেন ফুড কারখানাগুলোর মাত্র ১২ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে। ভেনামি চাষ বন্ধ থাকলে এই সংকট আরও তীব্র হবে।

  • নীতির ধারাবাহিকতাহীনতা: ২০২৩ সালে পাইলট প্রজেক্টের সফলতার পর সরকার যখন বাণিজ্যিক চাষের অনুমতি দিয়েছিল, তখন হঠাৎ এই স্থগিতাদেশকে ‘পলিসি ইনকন্সিস্টেন্সি’ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের অবস্থান বনাম বাস্তবতা

সরকার মূলত দেশি প্রজাতির (বাগদা ও গলদা) ঐতিহ্য রক্ষা এবং বিদেশি প্রজাতির মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে রপ্তানিকারকদের মতে, ২০ বছর ধরে দেওয়া ‘রোগ সংক্রমণের’ এই অজুহাত বৈজ্ঞানিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। আমদানির বিকল্প কোনো রোডম্যাপ ছাড়া এমন কঠোর সিদ্ধান্ত পুরো চিংড়ি শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এক নজরে পরিসংখ্যান

বিষয়তথ্য/পরিসংখ্যান
বিশ্ববাজারে ভেনামির চাহিদাপ্রায় ৮০%
বিশ্ব বাজারের আকার৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি ব্যবহারমাত্র ১২% (কাঁচামালের অভাবে)
স্থগিতাদেশের তারিখ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

সহজ কথায় বলতে গেলে, যখন বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল জাতের প্রয়োজন, তখন দেশীয় প্রজাতির সুরক্ষার দোহাই দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা হতে পারে।

0 comments on “ভেনামি চিংড়ি চাষে স্থগিতাদেশ: রপ্তানি খাতে ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্তের আশঙ্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ