Friday, 04 April, 2025

সর্বাধিক পঠিত

সাতক্ষীরা জেলায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সেচ প্রকল্প


সাতক্ষীরা জেলায় জলাবদ্ধতা দূর করে সেচ প্রকল্প পরিচালনা

এখনো বর্ষার পানি কমেনি। যার কারণে সাতক্ষীরা জেলায় জলাবদ্ধতা কাটেনি। জেলার সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকা এখনো পানিবদ্ধ। বাড়ি, ঘর, ফসলি জমি—সব সাত মাসের বেশি সময় ধরে পানির নিচে। এমন অবস্থাতেও পানিসেচ শুরু হয়েছে গদাইবিল সুরক্ষা কমিটি ও ঢেবুর বিল সুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে। যার কারণে ওই সব এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক স্বপ্ন দেখছেন তাঁদের জমিতে বোরো ধান আবাদের।

সেচ এর মাধ্যমে দূর করা হবে জলাবদ্ধতা

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এসব এলাকায় পানি সেচ কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন
বাংলাদেশে ফের বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব, যশোরে মুরগির খামারে শনাক্ত
মুরগীতে এভিয়ান ইনফ্লুয়িঞ্জা

বাংলাদেশে দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়েছে। যশোর জেলার একটি মুরগির খামারে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড Read more

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার Read more

প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদে নতুন করে কর্মযজ্ঞ ওই মাসেই শুরু হবে।

জমিতে ফসলের ফলন হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী আর জলাদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লবসা, ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর ও ফিংড়ি ইউনিয়নের তালতলা, মাগুরা, গোপীনাথপুর, কৈখালী, মেঠপাড়া, শ্যালে, বেড়াডাঙ্গী, রামচন্দ্রপুর, গোবিন্দপুর, পালিচাঁদ ও ঢেবুর বিলের জমি তলিয়ে আছে।

যা পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার বিঘা, যা বর্ষা মৌসুমের পর থেকে সাত মাস ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

লাবসা ইউনিয়নের গদাই বিল সুরক্ষা কমিটি সভাপতি মঞ্জুর হোসেন ও ফিংড়ি ঢেবুখালী সুরক্ষা বিলের আবদুল অদুদ।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জমির মালিক ও চিংড়িঘেরের মালিকের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে এই সেচ দেওয়ার জন্য।

তারা ধারণা করছেন, প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো খরচ হবে এসব জমি থেকে পানি সরাতে।

১৫ ডিসেম্বর থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এটি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসব জমিতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বোরো চাষ সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে এসব জমি থেকে ২১টি সেচ মেশিন পানি সরানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বেতনা, মরিচ্চাপ নদীসহ ৮২টি সংযোগ খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে এ কাজের অংশবিশেষ শুরু হয়েছে বলেও জানায় পাউবো সূত্র।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম হাসনাইন মাহমুদ।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা শহর ও সদর উপজেলার নদী এবং খাল খননের জন্য ৪৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে বেতনা নদী খননের জন্য দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নদী খনন ও সংযোগ খালগুলো খনন করা গেলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে টিআরএমের প্রস্তাব থাকলেও প্রকল্পে তা রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান এ কর্মকর্তা।

0 comments on “সাতক্ষীরা জেলায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সেচ প্রকল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ