Monday, 12 January, 2026

বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের গুড় উৎপাদন হচ্ছে যশোরে


‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’ এই প্রবাদটি যশোরের ক্ষেত্রে আজও প্রাসঙ্গিক। খেজুরের রস খায়নি এমন মানুষ আমাদের দেশে কমই আছেন। খেজুরের এই রস দিয়ে তৈরি হয় গুড়-পাটালি। এখন বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের গুড় উৎপাদন হচ্ছে এ অঞ্চলে। দেশের শত বছরের ঐতিহ্য খেজুরের গুড়ের পিঠাপুলি-পায়েস। বাণিজ্যিকভাবে খেজুড়ের গুড় উৎপাদন একই সাথে সনাতন এবং অনলাইন উভয় ভাবেই বিক্রয় হচ্ছে।

বাণিজ্যিক পরিব্যাপ্তি

যশোর জেলায় প্রাকৃতিক ভাবেই খেজুরগাছ হয়।

আরো পড়ুন
বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণ ও দেশীয় জাত বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ মৎস্য উপদেষ্টার

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনাকে অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Read more

শীতে আলুর মড়ক বা নাবি ধসা রোগ: ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়
আলুর মড়ক বা নাবি ধসা (Late Blight) রোগের চিত্র

শীতের মৌসুমে আলুর ফলন নিয়ে যখন কৃষক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, ঠিক তখনই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ‘নাবি ধসা’ Read more

অপরিকল্পিতভাবে সড়কের পাশে, খেতের আইলে, বাড়ির আঙিনায়, উঁচু জমি সহ প্রায় সর্বত্রই রয়েছে সারি সারি খেজুরগাছ।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার আট উপজেলায় খেজুরগাছ আছে মোট ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৫৫টি।

এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৫টি গাছে রস হয়।

যশোর সদর, মনিরামপুর, শার্শা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি খেজুরগাছ রয়েছে।

মৌসুমে একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় ১৫০ লিটার রস উৎপন্ন হয়।

ওই রস থেকে প্রায় ১৫ কেজি গুড় উৎপন্ন হয়।

বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন গুড়-পাটালির উৎপাদন হয় এ জেলায়।

মৌসুমে ৬৩ কোটি টাকার বেশি রস, গুড় ও পাটালির বাণিজ্য হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেন, যশোরের খেজুরের গুড় ও পাটালির বাণিজ্য ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

খেজুরের গুড়ের অনলাইন বাণিজ্যও হচ্ছে বর্তমানে।

জেলায় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ গুড়-পাটালি উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

এতে গাছিরা আগের তুলনায় লাভবান হচ্ছেন বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিশুদ্ধ ও নিরাপদ গুড়-পাটালি উৎপাদনে তাঁরা গাছিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

বর্তমানে খেজুরের গুড়কে জেলার ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে।

যশোর জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, খেজুর গুড়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবার জন্য এবং নতুন আঙ্গিকে বিশ্বদরবারে পরিচিতি করার লক্ষ্যে খেজুর গুড়কে যশোরের জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

গাছিরা জানান কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে খেজুরের গাছ তোলা গাছের উপরিভাগ চেঁছে পরিষ্কার করা হয়।

গাছের তোলা অংশ কয়েক দিন রেখে দিয়ে শুকানো হয়।

অগ্রহায়ণের শেষদিকে চেঁছে ওপরের দিকে দুটি চোখ কেটে নিচের দিকে বাঁশের নল বা নলি পোঁতা হয়।

দুই চোখের মাঝ বরাবর কেটে নলি পর্যন্ত একটি সরু রাস্তা তৈরি করা হয়।

নল বা নলির নিচে দড়ি দিয়ে মাটির তৈরি ভাঁড় ঝুলিয়ে তাতে রস সংগ্রহ করা হয়

গাছিদের দেয়া তথ্য অনুসারে খেজুরের রস বিক্রি হয় থেকে কেজি ওজনের প্রতি মাটির ভাঁড় ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

তাছাড়া গুড় বিক্রি হয় ২০০ টাকা এবং পাটালি বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে।

0 comments on “বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের গুড় উৎপাদন হচ্ছে যশোরে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ