Saturday, 07 March, 2026

পাট বিক্রির ধুম পড়েছে চুয়াডাঙা জেলার বাজারগুলোতে


মৌসুমের শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টিপাত কম হয়। এতে পাট জাগ দেবার সময় সামান্য বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল পাট চাষিদের। পরবর্তীতে বৃষ্টি পর্যাপ্ত পরিমাণ হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে গেছে। ঠিকমতো পাট কেটে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।  তাই চুয়াডাঙায় পাট বিক্রির ধুম পড়েছে বিভিন্ন বাজারে।

এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ছিল। তাই পাটের ফলনও যথেষ্ট ভালো হয়েছে। বর্তমানে  বাজারে নতুন পাটের ভালো দাম পাওয়ায় বেশ আনন্দিত চাষিরা। এতে দীর্ঘদিন পর সোনালি আঁশে হাসি ফিরেছে।

পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা

আরো পড়ুন
খুলনায় লবণাক্ত জমিতে বার্লি চাষে অভাবনীয় সাফল্য
খুলনার লবণাক্ত জমিতে প্রথমবার চাষ হচ্ছে বার্লি

লবণাক্ততার কারণে যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় জমি পড়ে থাকত অনাবাদী, কিংবা বর্ষায় কেবল আমন ধানের চাষ হতো, আজ সেই জমিও Read more

বন্ধের মুখে হরমুজ প্রণালী: মধ্যপ্রাচ্যে চরম খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত 'হরমুজ প্রণালী' বর্তমানে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ Read more

কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট নিয়ে। কোথাও পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। আবার হাইওয়ে বা রাস্তার পাশে খুঁটি পুঁতে তাতে পাট শুকাতে দেয়া হয়েছে। কোথাও আবার পাটগাছ কেটে জাগ দিয়ে  আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। অনেকে অটোরিকশা, ভ্যানে করে বাজারে পাট নিয়ে যাচ্ছেন। চুয়াডাঙার গ্রামাঞ্চলে এখন একটাই দৃশ্য চোখে পড়ে, সোনালি পাট নিয়ে ব্যস্ত কৃষক।

পাটের দাম বিগত বছর গুলোতে খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। এরমধ্যে গত বছর পাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায় হঠাৎ করে। মৌসুমের শুরুতেই প্রতিমণ পাট ২ হাজার টাকা থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও পরে বেড়ে যায়।  ৩৫০০ থেকে শুরু করে মৌসুমের শেষ পর্যায়ে হাটে প্রতিমণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকা পৌঁছে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জানায় গত বছর প্রতিমণ পাটের গড় মূল্য ৩৫০০ টাকা হয়েছিল ।

পাট চাষিরা জানান পাট চাষ করে পাট ঘরে তোলা যায় তিন মাসের মধ্যে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয় পাট চাষ করতে । এর বিপরীতে প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়।

এবছর পাটের মান ভেদে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত।  পাট চাষের খরচ বাদ দিলে পাট চাষিরা অভাবনীয় মুনাফা পাচ্ছেন ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার ২০,৫২৭ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে।  হেক্টরপ্রতি জমিতে পাট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬ টন। সে হিসেবে জেলায় ৭৩ হাজার ৮৯৭ টন পাট উৎপাদন হবে বলে তাদের ধারণা। বর্তমানে পাট কাটা ধোয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে ও পুরোদমে বেচা-কেনা চলছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন ড. আব্দুল মাজেদ। তিনি জানান, এবার ভালো ফলন হয়েছে পাটের। কৃষকরা  উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাচ্ছেন। আগামী বছর কৃষকরা আরও ব্যাপকভাবে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন পাটের দাম এ রকম থাকলে ।

0 comments on “পাট বিক্রির ধুম পড়েছে চুয়াডাঙা জেলার বাজারগুলোতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ