Saturday, 03 January, 2026

কুড়িগ্রামে ব্রি-২৮ ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় আগাম জাতের উচ্চফলনশীল ব্রি-২৮ ধানে নেক ব্লাস্ট (শীষ মরা) রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।  অধিক খরচে আবাদ করে এ রোগের আক্রমণে দিশেহারা কৃষক।

অধিকাংশ কৃষকের দাবি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ক্ষেতে ওষুধ স্প্রে করেও শীষ মরা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ব্রি-২৮ জাতের ধানে চিটার পরিমাণ বেশি হওয়ায় ধান কাটতে কৃষকদের মাঝে অনীহা দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি গবাদিপশুও শীষ মরা রোগে আক্রান্ত ধানের খড় খেতে চায় না।

আরো পড়ুন
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় বাকৃবির ডিজিটাল উদ্ভাবন ‘হল ফাইন্ডার’
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

ময়মনসিংহ আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আসন বিন্যাস সহজতর করতে ‘বাউ এক্সাম হল Read more

আসন্ন রমজানে স্বস্তি: খেজুর আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিল সরকার
খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

ঢাকা আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারদর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক Read more

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এ বছর ১৬ হাজার ২১২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়। যার মধ্যে ৩ হাজার ১ শ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ধান চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া, উজির পাড়া, মাহিগঞ্জ, লক্ষী মোড়, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজ পাড়, বেলদহ, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের মোগলকাটা, ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার, বাগভান্ডার, ঈশ্বরবরুয়া, কামাত আঙ্গারীয়া, তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর, বানিয়াটারী, পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম, বাঁশজানী, শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই, দক্ষিণ ধলডাঙ্গা ও কাঠগীর এলাকায় ব্রি-২৮ জাতের ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে। কৃষকদের মতে এই রোগের নাম ‘শীষ মরা’ আর কৃষি অফিসের মতে এটি ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগ।

আন্ধারীঝাড়ের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, এক বিঘা ধান কেটে বাড়িতে নিয়েছি, এই ধানের খড় গরুও খেতে চায় না। অপর কৃষক রফিকুল জানান, বিঘাপ্রতি ছয় মণ ধান দেওয়ার চুক্তিতে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধান চাষ করেছি। শীষ মরা রোগে সমস্ত জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। লাভ তো দুরের কথা, খরচ উঠবে না। জমির মালিক যদি ছাড় না দেন বাজার থেকে ধান কিনে দিতে হবে তাকে।

পাইকের ছড়ার বেলদহ গ্রামের কৃষক ভুট্টু জানান, ধানের শীষের গোড়ার দিকে কালো দাগ হয়, দুইদিনের মধ্যে সমস্ত শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। ওষুধ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, তার এক প্রতিবেশীর এক বিঘা জমিতে ১ মণের কম ধান হয়েছে। দক্ষিণ ভরতের ছড়ার কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি, ওই জমিতে ৩/৪ মণ ধান হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক শাহ আলম জানান, ৩৮ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ধানের যে অবস্থা তাতে ধান কাটা আর না কাটা একই সমান।

সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিভাগের প্রভাষক আজিজুল হক বলেন, ধানের শীষ বের হওয়া শুরু হলে জমিতে সব সময় দুই আড়াই ইঞ্চি পানি রাখলে এবং পটাশিয়াম ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করলে ধানের শীষ সাদা হয়ে ধান এত বেশী নষ্ট হবে না এবং ধান নেকব্লাষ্টে আক্রান্ত কম হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, নেক ব্লাস্ট দমনে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ব্রি-২৮ জাতটি বর্তমান সময়োপযোগী নয়। কৃষি অফিসের তৎপরতায় ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। জমিতে অধিক পরিমাণে ইউরিয়া ও ডিএপি সার প্রয়োগ, পরিমাণমতো এমওপি সার প্রয়োগ না করার কারণে নেক ব্লাস্টের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়া জমিতে ৬৬ লিটার ওষুধ মেশানো পানি স্প্রে করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে। কৃষকরা সঠিকভাবে স্প্রে না করায় নেক ব্লাস্ট প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি কৃষকদের ব্রি-২৮ জাতের পরিবর্তে ব্রি-৭৪, ব্রি-৮৬, ব্রি-৮৯ ও ব্রি-৯২ জাত চাষ করার পরামর্শ প্রদান করেন।

0 comments on “কুড়িগ্রামে ব্রি-২৮ ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ