Wednesday, 08 April, 2026

প্রতিকূল পরিবেশেও বোরোধান আবাদ বেড়েছে


প্রতিকূল পরিবেশেও বোরোধান আবাদ বেড়েছে বাগেরহাটে। জেলার রামপালে প্রতিকূল মাটি এবং তীব্র লবণাক্ততার মধ্যেও বোরো ধানের চাষ বেড়েছে। যার প্রধান কারণ হিসেবে লবণ সহিষ্ণু জাত, উন্নত বীজ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সঠিক বীজ নির্বাচন ও সেচ ব্যবস্থা সহজীকরণ কে বলা হচ্ছে। মূলত এর ফলে এ উপজেলায় ধানের চাষ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ উপজেলার খাদ্যের উদ্বৃত্তের পরিমান প্রচুর।

জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদার বিপরীতে উদ্বৃত্ত খাদ্যের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন।

আরো পড়ুন
লাভজনক হলুদ চাষে কৃষকের করণীয়: আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যা
হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল।

হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে বেশি ফলন Read more

লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি
লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি

গলদা (Macrobrachium rosenbergii) হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্বাদুপানি/লবনাক্ত পানির বড় চিংড়ি। এটি ৫ ppm‑এর নিচে লবণাক্ততার ঈষৎ লোনা পানিতে ভালো Read more

রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার আওতায় ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে।

যাতে মোট বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৩৭৪ হেক্টর জমিতে।

কিন্তু ক্রমেই তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪৪০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে গৌরম্ভা ইউনিয়নে ৫৩৫ হেক্টর, উজলকুড় ইউনিয়নে ২২৮০ হেক্টর, বাইনতলা ইউনিয়নে ১০২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

অন্যদিকে  রামপাল সদর ইউনিয়নে ৪৩০ হেক্টর রাজনগর ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর, হুড়কা ইউনিয়নে ৮ হেক্টর ও মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রানী মণ্ডল এর সাথে কথা হয়।

তিনি বলেন, নানাবিধ কারণেই এ বছর বোরো ধানের আবাদ বেড়েছে।

এর মধ্যে প্রধান কারণগুলোর অন্যতম হলো, গত বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন।

যার কারণে কৃষক আরও বেশি বোরো চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।

সব ইউনিয়নেই এবার বোরোর চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

প্রণোদনা পুনর্বাসনের মাধ্যমে কৃষককে বিনা মূল্যে বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সকল কৃষককে হাইব্রিড ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে  কৃষি বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে প্রচুর কাজ করেছেন বলে জানান।

তারা কৃষকদের বোরো ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান ব্রি-৬৭ ও বিনা ধান ১০ জাত সরবরাহ এ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বীজ সঠিক সময়ে সরবরাহ করা গেছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপর আস্তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ন্যায্য মূল্য ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ইত্যাদি কারণে এবছর চাষ বেড়েছে বলে তিনি জানান।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, কৃষক যাতে বেশি করে ফলন বৃদ্ধি করতে পারেন সেজন্য সরকার সচেষ্ট।

সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হবে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন এর সাথে কথা হয়।

তিনি জানান, সরকারের দিক নির্দেশনায় তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

বোরো আবাদ বৃদ্ধির জন্য সব ধরনের চেষ্টা  করছেন তারা।

সার, বীজ ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

0 comments on “প্রতিকূল পরিবেশেও বোরোধান আবাদ বেড়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ