Wednesday, 08 April, 2026

সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপের কৃষক, প্রতিকূলতায় চলছে তাদের চাষ


প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ। সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপের কৃষক বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা করে, নদীভাঙ্গনকে ও লবাণাক্ততা ইত্যাদি আগ্রাসনকে পিছনে ফেলে চাষ করছেন। বিভিন্ন ফসলের সাথে তারা ধানও আবাদ করছেন।

তারা এখন চাষ করছেন শিম, টমেটো, শসা, পেঁপে, ঢেঁড়শ, করলার পাশাপাশি মৌসুম ছাড়া তরমুজও।

কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্ববধানে রয়েছেন এই কৃষকরা।

আরো পড়ুন
লাভজনক হলুদ চাষে কৃষকের করণীয়: আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যা
হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল।

হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে বেশি ফলন Read more

লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি
লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি

গলদা (Macrobrachium rosenbergii) হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্বাদুপানি/লবনাক্ত পানির বড় চিংড়ি। এটি ৫ ppm‑এর নিচে লবণাক্ততার ঈষৎ লোনা পানিতে ভালো Read more

তারা এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে হাতিয়ার করে ফসল ফলাতে সক্ষম হচ্ছেন লবণাক্ত জমিতে।

যদিও সারাদেশে তরমুজের জন্য খুলনার দাকোপ উপজেলা বিখ্যাত।

সবুজ ধানের বুক চিরে বেরিয়ে দাকোপের মাঠে মাঠে আসতে শুরু করেছে ধানের শীষ।

প্রতিদিন একটু একটু করে শীষগুলো বড় হচ্ছে, সেই সাথে বড় হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।

কয়দিন আগে সেই স্বপ্নে বৃষ্টির কারণে একটু হলেও ভাটা পড়েছিলো।

তবে শীতকালীন সব সবজি কৃষকের সেই স্বপ্নকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ধানের পাশাপাশি তারা নানা জাতের সবজি উৎপাদন করছেন।

এবছর ধান ভালো হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।

আবহাওয়া ভালো থাকায় এবছর সবচেয়ে ভালো হয়েছে আমন ফলন।

তাই সোনালি ধানের সোনালি স্বপ্ন কৃষকের চোখেমুখেও।

দাকোপের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো শুধু ধান নয়, সবুজে ছেয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান যে, মাঠ ধানের ছড়ায় ভরে গেছে।

দাকোপের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে যে বড় বড় ঘের এখন পরিবর্তিত হয়ে সব ঘের ছোট হয়ে গেছে।

ঘেরের চারপাশে ওপরে কঞ্চি দিয়ে জাল টাঙিয়ে তার ওপরে ও বাগানের চারপাশের বেড়া বেয়ে উঠেছে নানা সবজির গাছ।

ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষের সাথে সাথে চলছে সবজি বাগান।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান।

তিনি বলেন, এবার জেলার মধ্যে আমন আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে দাকোপে, ১৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে।

চলতি আমন মৌসুমে গতবারের তুলনায় দাকোপে এবার ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এরমধ্যে চাষিরা ৫ শতাংশ জমির ধান কেটে ফেলেছে।

তার ধারণা আগামী ২০ দিনের মধ্যে চাষিরা সব ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে পারবে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান যে, আমন ধান রোপণের সময় কৃষকরা তাদের জমির আইলে নানা সবজি ফলিয়েছেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তরমুজ চাষে দাকোপের কৃষকরাও এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করে তিনি।

তিনি বলেন, এখানকার তরমুজ দেশ বিখ্যাত সেকারণে মৌসুম ছাড়াও এখানকার কৃষকরা তরমুজ চাষ করছেন।

লবণাক্ততা উপকূলীয় মানুষ এবং পরিবেশের ওপর ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। এটি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ কম রয়েছে।

সরকারি সংস্থাগুলো এসব নিয়ে তাদের মতো করে কাজ করছে।

0 comments on “সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপের কৃষক, প্রতিকূলতায় চলছে তাদের চাষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ