Friday, 03 December, 2021

সর্বাধিক পঠিত



স্বাদু পানিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা


স্বাদু পানিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা

মাছ চাষের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচিত হল- সুস্থ সবল পোনা, ভাল মানের আদর্শ মাছের খাবার এবং সুষ্ঠ পানি ও চাষ ব্যবস্থপনা। কিছু দিন আগেও মাছ চাষ শুধু একটি প্রাকৃতিক বিষয় ছিল। এখন মাছ চাষ অন্য সব ব্যবসার মত নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবসা।

বাংলাদেশের বিশাল জনসংখার খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রোটিন চাহিদা পুরনে জলাশয়ের যথাপুযুক্ত ব্যবহারে মাছ চাষের গুরুত্ব রয়েছে। স্বাদু পানিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা সঠিক ভাবে করতে পারলে বেকার জনসংখ্যার বিকল্প কর্মসংস্থান এ সেক্টরে তৈরি হবে।  মাছ চাষীর বিনিয়োগের সাথে বাড়বে আয় এবং নিয়ে আসবে আর্থিক সচ্ছলতা ফলশ্রুতিতে বাড়বে পারিবারিক এবং সামাজিক মান উন্নয়ন।

মানুষের প্রোটিন চাহিদা পূরণে প্রাকৃতিক উৎসের সম্পদের আজ বেহাল দশা। পুকুরে মাছ চাষ করলে প্রাকৃতিক উৎসের উপর চাপ কমবে। স্বাদু পানিতে মাছ চাষের সঠিক ব্যবস্থাপনা ফিরাবে বিনিয়োগ ফলাবে সোনা।

আরো পড়ুন
শীতের আগে মাছ চাষীদের মাছ চাষের পুকুরে করনীয়
Winter Season Fish Culture

পৌষ-মাঘ সময়টা শীতকাল (winter season), মাছ চাষীদের ক্রান্তিকাল। পৌষ মাস থেকেই হালকা শীত পড়তে শুরু করে। এজন্য মাছের খাদ্য গ্রহণ Read more

একুরিয়াম মাছের পেট ফোলা রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও করনীয়
Aquarium Fish Dropsy

মাছ চাষের পুকুরে, বায়োফ্লকে, একুরিয়ামে কিংবা যেকোন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পেট ফোলা একটি পরিচিত রোগ।  মাছের পেট ফোলা রোগ হলে Read more

স্বাদু পানিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায় যা আলাদা আলাদা ভাবে উপস্থাপন করা। এখানে স্বাদু পানিতে মাছ চাষ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে-

মাছ চাষের পানির উপাদানসমূহঃ

মাছ চাষের পানির উপাদানসমূহ বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। পানির মানের উপর নির্ভর করে মাছ চাষের সফলতা। পানিতে প্রধানত দু ধরনের দ্রবীভূত ও অদ্রবীভূত উপাদান পাওয়া যায়।

দ্রবীভূত উপাদান সমূহ

  • গ্যাস (Gases): অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন সালফাইড
  • মিনারেল (Minarel):  ক্যালসিয়াম (Calcium), ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম লবন
  • জৈব উপাদানঃ কার্বোহাইড্রেড (Carbohydrate), প্রোটিন (Protein) অন্যান্য

অদ্রবীভূত উপাদান সমূহ

  • ক্ষুদ্রজীব (Micro Organism)

১। ফাইটোপ্লাংটন (Phytoplankton)

২। জুপ্লাংটন (Zooplankton)

  • অজীবন্তঃ

১। মিনারেল-কাদা, স্লিট

২। ডেট্টিটাস, ডেব্রিস, হিউমাস ইত্যাদি

মাছ চাষে পিএইচের ( pH ) প্রভাব

পিএইচ (pH) কি : এসিড এবং ক্ষারের পরিমাপ পিএইচের ( pH ) মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়। pH এর কোন পরিমাপক একক নেই। তবে এর একটা পরিমাপক স্কেল রয়েছে যা  ১ – ১৪ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই স্কেলের মধ্যম মান  ৭, এই মানকে প্রশমন মান বলা হয় অর্থাৎ এই মান এসিড বা ক্ষারীয় কোন বৈশিষ্ট্য বহন করে না। pH স্কেল এর মান ৭ এর নিচে হলে তা এসিটিক এবং ৭ উপরে হলে ক্ষারীয়।

মাছ চাষের আদর্শ pH : স্বাদু পানিতে মাছ চাষের আদর্শ pH ৭.০ – ৮.৫ যা একটু মৃদু ক্ষারীয়।

pH এর মান কেন এসিডিক হয় বা কেন স্কেল ৭ এর নিচে প্রদর্শন করে :

ক) পুকুরের অতিরিক্ত খাদ্য ব্যবহারে ফলে অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত খাদ্য পচনে ও পুকুরে তলদেশে  জৈব পদার্থ  অ্যান অ্যারোবিক (Anaerobic) ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা ভেঙ্গে জৈব এসিড তৈরি হলে পুকুরে এসিডিক অবস্থার তৈরি হয় এবং পি এইচের মান ৭ এর নিচে চলে আসে ।
খ) পুকুরের তলায় কাদায় হাইড্রোজেন গ্যাস জমা হলে পুকুরের মাটি এবং পানি এসিডিক হয়।
গ) বৃষ্টি  পড়ার পর আশেপাশের ধৌত হয়ে আসা বিভিন্ন এসিডিক পদার্থ বা সালফিউরিক এসিড পানিতে পড়লে পানি এসিডিক হয় এবং পি এইচ কমে যায়।

pH এর মান কেন ক্ষারীয় হয় বা কেন স্কেল ৭ এর উপরে প্রদর্শন করে :

১. খাদ্যের পরিমান বেশি হলে মাছ না খেলে খাদ্য পঁচনের ফলে।
২. বিভিন্ন প্ল্যাঙ্কটন বেশি হয়ে  তা পঁচে গিয়ে।
৩. বিভিন্ন গ্যাসের আধিক্য যেমন অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট, নাইট্রাইট ।
৪. পানিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি ক্যামিকাল বা জৈব সার প্রয়োগ করলে।

নিম্নে Swingle (1969) এর মতে মাছ ও জলজ জীবের উপর পিএইচের প্রভাব দেয়া হলো—-

পিএইচ ( pH ) ফলাফল
১) ৪.০ অম্লীয় কারনে মাছ মারা যায় ।
২) ৪.০—৫.০ মাছের প্রজনন হয় না ।
৩) ৪.০—৬.৫ মাছ ধীরে বৃদ্ধি পায় ।
৪) ৬.৫—৯.০ মাছের ভাল ভাবে বৃদ্ধি হয় ।
৫) ৯.০—১১.০ মাছের ধীরে বৃদ্ধি হয় ।
৬) ৯.৫—১১.০ মাছের প্রজনন হয় না ।
৭) >১১.০ ক্ষারীয় কারনে মাছের মৃত্যু হয় ।

স্বাদু পানিতে মাছ চাষে যে সকল ব্যবস্থাপনা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়-

  • পোনা মজুদ পূর্ব ব্যবস্থাপনা  (Pre stocking Managment)
  • পোনা মজুদকালীন ব্যবস্থাপনা (Stocking Managment)
  • পোনা মজুদ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (Post Stocking Management)

পোনা মজুদ পূর্ব ব্যবস্থাপনা

পোনা মজুদ পূর্ব ব্যবস্থাপনা নিমোক্ত বিষয়ে নজর দিতে হবে-

আগাছা (Weeds) পরিস্কার এবং পুকুরের (Ponds) পাড় ও তলা মেরামত করনঃ

  • পুকুর পাড়ের ঝোপ জঙ্গল ও জলজ আগাছায় বিভিন্ন রাক্ষুসে প্রানী আশ্রয় নেয় এবং পুকুরের মাছ খায়
  • পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকলে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করে
  • পাড় ভাঙ্গা থাকলে বাহিরের দূষিত পানি ও অবাঞ্চিত প্রাণী পুকুরে প্রবেশ করে এবং পুকুরের মাছ বাহিরে চলে যায়।
  • পুকুরের তলা অসমান থাকলে জাল টেনে মাছ ধরতে অসুবিধা হয়
  • পুকুর পাড়ে ইউক্যালিপ্টাস এবং অন্যান্য ছোট পাতার গাছের পাতা পড়ে পুকুরে পানি নষ্ট করে

রাক্ষুসে মাছ (Predator Fish) দূরীকরণ

  • বোয়াল, শোল, গজার, টাকি, চান্দা, চিতল এবং ফলি ইত্যাদি রাক্ষুসে মাছ। পুকুরে রাক্ষুসে মাছ থাকলে তা চাষের পোনা এবং মাছের খাবার খেয়ে ফেলে
রাক্ষুসে মাছ
রাক্ষুসে মাছ

রাক্ষুসে মাছ (Predator Fish) দূর করার পদ্ধতিঃ

১। ঘন ফাসের জাল টেনে

২। পুকুর শুকানোঃ এর মাধ্যমে দুধরনের উপকার হয় রাক্ষুসে মাছ দুর হয় এবং পুকুরের তলা শুকিয়ে ক্ষতিকর গ্যাস দুর হয়

৩। পুরাতন পানি অপসারন করা না গেলে,যথা সম্ভব পানি কমিয়ে প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট পানির গভিরতায়   ৩০-৪০ গ্রাম হারে রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করা

৪। অন্য কেমিক্যাল ব্যবহার যেমনঃ ট্যাব ফোসটক্সিন শতাংশে দুটি, টি সিড মিল (ACI)

মজুদ পূর্ব চুন প্রয়োগ (Use of Lime in the pond)

চুন প্রয়োগ করলে-

  • পিএইচ (pH) এর সমতা রাখে ।
  • পুকুরের প্রাথমিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সক্রিয় করার জন্য চুন কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তৈরী করে যা পানিতে সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়া চালু রাখে।
  • চুন পুকুরের তলদেশের জৈব ও বর্জ্য পদার্থকে পচাতে সাহায্য করে ফলে নাইট্রোজেনের পরিমান বেড়ে যায় যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনতে প্রভাবিত করে।
  • মাটির পুষ্টিকারক পদার্থ পানিতে মিশিয়ে মাছের খাবার তৈরীতে সাহায্য করে।
  • চুন প্রয়োগে তলদেশের পরজীবি ও ক্ষতিকারক অনুজীব ধংস হয় ।
  • পানির ঘোলাত্ব দুরীকরণ ও পানি পরিশোধনের কাজ করে।
  • লেজ ও পাখনা পচা রোগ ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়।

চুন প্রয়োগ মাত্রা এবং পদ্ধতিঃ

  • শুকনো পুকুরের তলদেশে প্রতিশতাংশে ১ কেজি হারে কলিচুন ( পাথুরি চুন হিসাবে পরিচিত) ছিটিয়ে দিতে হবে
  • পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে একই হারে চুন পানিতে মিশিয়ে ঠাণ্ডা করে পাড় সহ সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে
  • চুন প্রয়োগের ৩/৪ দিন পর পুকুরে পানি প্রবেশ করাতে হবে

চুন প্রয়োগে সতর্কতা

  • বাতাসের অনুকুলে চুন ছিটাতে হবে,
  • পানির মধ্যে চুন ঢালতে হবে, চুনের মধ্য পানি ঢালা যাবে না
  • চুন গোলানো বা ব্যবহারে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করা যাবে না, মাটি বা সিমেন্টের পাত্র উত্তম
  • মাস্ক বা সুবিধাজনক কাপড় দিয়ে ব্যবহারকারীর নাক ও মুখ ঢেকে দেয়া

মজুদ পূর্ব সার প্রয়োগ

পুকুরে পরিমিত সার প্রয়োগ করলে-

  • পুকুরে উর্বরতা বৃদ্ধি পায়
  • মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়
  • সম্পূরক খাদ্য কম লাগে
  • উৎপাদন ব্যয় কম হয়

তাই চুন প্রয়োগের ৭ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হবে। সারের মাত্রা এবং পরিমান নির্ভর করে-

  • সারের অবস্থা
  • মাটির গুনাগুন
  • পানির অবস্থা এবং রং

সার দুই ধরনের হয়

  • জৈব সার- গোবর, কম্পোস্ট, ইত্যাদি
  • অজৈব সার- ইউরিয়া, টিএসপি

সার প্রয়োগ (Fertilizer) পদ্ধতিঃ

  • ইউরিয়া (Urea) যে পরিমান দিবেন টি এস পি (Triple supar Phosphate) তার অর্ধেক যেমন- প্রতি শতাংশে ২৪০ গ্রাম ইউরিয়া সেক্ষেত্রে টিএসপি পরিমান হবে ১২০ গ্রাম
  • জৈব সার প্রয়োগের পর অজৈব সার প্রয়োগ করা ভাল। প্রস্তুতিকালীন সময়ে শতাংশে ৭-৯ কেজি হারে গোবর পুকুরের তলাতে সমভাবে ব্যবহার করা ভাল।
  • সারারাত টি এস পি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে
  • পরের দিন পরিমান মত ইউরিয়া পানির সাথে মিশিয়ে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

সার প্রয়োগ সতর্কতা ও বিবেচ্য বিষয়ঃ

  • মেঘলা দিনে ও বৃষ্টির মধ্যে সার প্রয়োগ না করায় ভাল।
  • মিশ্র সার ব্যবহারের পূর্বে পরিমিত পানিতে ভাল ভাবে মিশাতে হবে।
  • পলি ঘটিত ঘোলাত ও আগছা থাকলে সারের কার্যকারিতা কম হবে
  • চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিনের মধ্যে সার প্রয়োগ করা ঠিক নয়

প্রাকৃতিক খাদ্য (Natural Feed) পরীক্ষা

সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর পুকুরে পর্যাপ্ত খাদ্য হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। পুকুরের পানির রং সবুজ অথবা বাদামি হলে বুঝতে হবে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়েছে।

  • খাদ্য পরীক্ষা পদ্ধতি-
  • হাত পদ্ধতিঃ সূর্যের দিকে মুখ করে হাত পানিতে কনুই পর্যন্ত ডুবাতে হবে। হাতের তালু দেখা গেলে খাবার কম তৈরি হয়েছে আর না দেখা গেলে খাবার পর্যাপ্ত তৈরি হয়েছে।
  • গামছা- গ্লাস পদ্ধতিঃ গামছার মাধ্যমে পানি ছেকে স্বচ্ছ গ্লাসে নিতে হবে, সূর্যের আলোর বিপরীতে দেখতে হবে সুজির দানার মত পোকা দেখা গেলে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হয়েছে।

পানির বিষাক্ততা পরীক্ষা

পুকুরের পানি বিষাক্ত থাকলে পোনা মারা যেতে পারে। তাই পোনা ছাড়ার পূর্বে পানি বিষাক্ততা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

হাপা পদ্ধতিঃ পোনা ছাড়ার ১-২ দিন পূর্বে হাপা স্থাপন করে ১০-১৫ টি পোনা ছেড়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

হাড়ি বা পাত্র পদ্ধতিঃ পুকুরের পানি হাড়িতে বা পাত্রে নিয়ে তাতে ৮-১০ টি পোনা ছেড়ে ১২-১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

পোনা মজুদকালীন ব্যবস্থাপনা

প্রজাতি নির্বাচন ও মজুদ ঘনত্ব নির্ধারণ

একেক প্রজাতির মাছ পুকুরের একেক স্তরে বাস করে। যেমন,
১. উপরের স্তর: সিলভার, কাতলা, বিগহেড
২. মধ্য স্তর: রুই
৩. নিচের স্তর : মৃগেল,র্কাপু, ঘনিয়া, বাটা
তেলাপিয়া, পুটি, পাঙ্গাস এরা সকল স্তরে বসবাস করে। প্রজাতি নির্বাচনে এসব বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

মজুদ ঘনত্ব:

প্রজাতিপোনার আকারপোনার সংখ্যা প্রতি শতাংশে
নমুনা-১নমুনা-২নমুনা-৩নমুনা-৪নমুনা-৫
পাঙ্গাশ৫-৭ ইঞ্চি১৫০১০০
সিলভার৫-৭ ইঞ্চি১২১৫
বিগহেড৫-৭ ইঞ্চি
কাতলা৫-৬ ইঞ্চি
রুই৫-৬ ইঞ্চি
মৃগেল/ কালবাউস৫-৬ ইঞ্চি
কার্পিও৩-৪ ইঞ্চি
ঘনিয়া/ বাটা২-৩ ইঞ্চি
গ্রাস কার্প৫-৬ ইঞ্চি
রাজপুটি২-৩ ইঞ্চি১০
তেলাপিয়া২-৩ ইঞ্চি৩০১২১৫০২৫০
মোট১৭০১৭০৬০১৬০২৬৫

ভাল পোনা (Healthy Fry) নির্বাচন মাছ চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকঃ

মাছ চাষে সুস্থ সবল পোনা ফলাবে সোনা। সুস্থ পোনা চেনার উপায়।

  • দেহ উজ্জল,চকচকে এবং পিচ্ছিল
  • স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করে
  • স্রোতের বিপরিতে চলে
  • লেজ টিপে ধরলে দ্রুত মাথা নাড়ায়

পোনা পরিবহন, অভ্যস্থকরন এবং মজুদ

  • পোনা পরিবহনঃ পোনা পরিবহনে ভাল প্যাকিং ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
  • পোনা অভ্যস্থকরন এবং মজুদঃ পোনা পুকুরে ছাড়ার সময় পোনাকে কিছু ক্ষন ব্যাগে রেখে পানিতে রেখে দেয়া যায় এতে পোনা নতুন পরিবেশে অভ্যস্থ হয়।
  • তাপমাত্রা অভ্যস্থকরন
  • পানি অভ্যস্থকরন

পুকুরে পোন ছাড়বেন না যদি

  • পানির তাপমাত্রা (Water temperature) বেশি থাকে
  • বৃষ্টি (Raining) অথবা নিম্নচাপের দিন

পোনা মজুদ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা

মজুদ পরবর্তী চুন ও সার প্রয়োগ

  • প্রতি মাসে প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করতে হবে।
  • প্রাকৃতিক খাদ্য কমে গেলে প্রতি শতাংশে প্রতি সপ্তাহে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম টি এস পি সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যাপ্ত থাকলে সার প্রয়োগ করতে হবে না।
  • জৈব ও অজৈব সার সমান ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুকনো গোবর ২-৩ কেজি প্রতি শতাংশে দেওয়া যেতে পারে।
  • পানি অধিক সবুজ ও শেওলাযুক্ত হয়ে গেলে নতুন পানি দিতে হবে এবং কয়েকদিন খাদ্য প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।

সম্পূরক খাদ্য ( suplimentary feed)

সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ। সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা

  • অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়।
  • অল্প সময়ে বড় আকারের সুস্থ ও সবল পোনা উৎপাদন করা যায়
  • মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।
  • মাছ বাচার হার বৃদ্ধি পায়
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • মাছের ফলন ভাল হয় এবং লাভজনক মাছ চাষ হয়।

সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ

তেলাপিয়া চাষের পুকুরে খাদ্য প্রয়োগঃ

পালনকালপোনার ওজনখাদ্যের ধরনদৈনিক প্রয়োগ মাত্রা

(দেহ ওজনের শতকরা হার)

দৈনিক প্রয়োগ
১-১৫ দিন৫-১৫ গ্রামস্টার্টার (ক্রাম্বল)২০-১৫%৩ বার
১৬-৩০ দিন১৫-৪০ গ্রামস্টার্টার (পিলেট)১০-৮ %৩ বার
৩১-৬০ দিন৪০-১০০ গ্রামগ্রোয়ার৭-৫%২ বার
৬১-১০০ দিন১০০ গ্রাম এর বেশিফিনিসার৩-২%২ বার

অন্যন্য মাছের ক্ষেত্রে পুকুরে খাদ্য প্রয়োগঃ

প্রজাতিপোনা মাছ (দেহ ওজেনর শতকরা হার) (%)১৫-৪০ গ্রাম মাছ ( দেহ ওজনের শতকরা হার ) (%)বড় মাছ ( দেহ ওজনের শতকরা হার ) (%)
কার্প মাছ২০-১০ শতাংশ১০-৫ শতাংশ৫-২ শতাংশ
ক্যাট ফিস (শিং, মাগুর)২৫-১০ শতাংশ১৫-৫ শতাংশ৭-৩ শতাংশ
কৈ মাছ২৫-১৫ শতাংশ২০-১০ শতাংশ১০-৪ শতাংশ

সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ

সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়ঃ

  • মাছের বেঁচে থাকার হার (Fish survival rate), দৈহিক বৃদ্ধি ও খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা পর্যালোচনা করে খাদ্য প্রয়োগ মাত্রা সমন্বয় করতে হবে
  • প্রতি ৭ দিন পরপর অল্প কিছু মাছ ধরে তাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে
  • শীত মৌসুমে খাবারে পরিমান কমিয়ে পরিমানমত দিতে হবে
  • পুকুরে গ্রাস কার্প ও সর পুটি থাকলে সবুজ ঘাস ও নরম পাতা দেয়া
  • সপ্তাহে এক দিন খাবার বন্ধ রাখায় ভাল
  • বৃষ্টি হলে খাবার দেয়া যাবে না

মাছের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পরীক্ষা (Fish health and growth examination)

মাছের বৃদ্ধি ঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা এবং রোগ বালাই হয়েছে কিনা দেখার জন্য মাঝে মাঝে জাল টেনে মাছ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি

  • মাছের উৎপাদন সর্ম্পকিত কিছু সূত্র সমূহ:

নিন্ম লিখিত সূত্র সমূহ আধুনিক মাছ উৎপাদনের জন্য জানা জরুরী

ক. খাদ্য রূপান্তরের হার (এফসিআর)= মোট ব্যবহৃত খাদ্য (কেজি)/(মোট উৎপাদিত মাছ (কেজি)-মাছের মোট প্রাথমিক ওজন (কেজি))

খ. মাছের গড় ওজন বৃদ্ধি= (বর্তমানে মাছের মোট ওজন (গ্রাম)- প্রাথমিক মাছের ওজন (গ্রাম))/ মোট চাষ কাল (দিন)

গ. মাছের গড় ওজন = প্রত্যেক নমূনায় মাছের প্রাপ্ত ওজনের যোগফল/প্রত্যেক নমূনায় মাছের প্রাপ্ত সংখ্যার যোগ ফল *১০০।

মাছ আহরণ (Fish harvesting)

পুকুরের সব মাছ একই হারে বড় হয় না। মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলি বিবেচ্য-

  • মাছের ওজন- খাবার উপযোগী সাইজ
  • বাজার দর- রোজা, পুজা, বিয়ে উৎসবে মাছের দাম বেশি থাকে
  • ঝুকি- বর্ষা, ক্ষরা, শীত, চুরি মাছ চাষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
  • পোনার প্রাপ্যতা- আহরণের পর পুনরায় মজুদের জন্য

আহরণ দুই ভাবে হয়

১। আংশিক আহরন ও পূনঃমজুদঃ ১০-১৫% পূনঃমজুদ করা

২। সম্পূর্ণ আহরনঃ যদি ও সব মাছ ধরা কে সম্পূর্ণ আহরন বলে। অনেক সময় বড় জলাশয়ে তা সম্ভব হয় না।

মাছ বাজারজাত করন (Fish Marketing)

বাজারে জীবন্ত মাছের দাম বেশি। মাছ বাজারজাত করনের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়-

১। মাছ ধরার সময় সাবধানে নাড়াচাড়া করা। মাছকে ক্লান্ত করলে তাড়াতাড়ি মাছ পচে যায়।

২। আড়তে মাছ বিক্রয়ে খুব তাড়াতাড়ি (সকাল সকাল) আড়তে পৌছানো

৩। মাছ জীবিত অথবা বরফায়িত করে পরিবহন করা

3 comments on “স্বাদু পানিতে মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা

মোঃ আজমল হোসেন

আমি নতুন মাছ চাষী।ফিচারটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। ফিচারটি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Reply
ইসতিয়াক নাসের

অনেক কিছু জানতে পারলাম। মাছ চাষের জন্য উপকারি লেখা। ধন্যবাদ লেখক কে।

Reply
Mohammad Shamsuddin

Complete Fish culture knowledge and informative writte. Thanks writter.

Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *