Saturday, 20 July, 2024

সর্বাধিক পঠিত

ফুলকপি চাষ পদ্ধতি


ফুলকপি

বাংলাদেশের শীতকালীর সবজির মধ্যে ফুল কপি অন্যতম । স্বাদে ও গুণে ভরপুর ফুলকপি সবজির চাহিদা শীতকাল আসলে বেড়ে যায়। ফ্রাইড রাইস থেকে সূপ সব ধরনের খাবারে ফুলকপির চাহিদা রয়েছে।

মাটি ও সবজির বৈশিষ্ট জেনে ফুলকপি চাষ করলে ফুলকপি চাষে অনেক লাভ করা যায়। এ ছাড়া বেছে নিতে হবে ভাল জাতের বীজ।

বাজারে ফুলকপি বীজের দাম কেমন ?

আরো পড়ুন
বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বেশি : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু জানিয়েছেন যে বৃষ্টি, ভারী বর্ষণ এবং বন্যার কারণে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়াও Read more

কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হয়ে চাষাবাদ বাড়ানোর তাগিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন যে গ্রামে বেশির ভাগ মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়েছেন, তবে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হয়ে ভালো উপার্জন করা সম্ভব। Read more

হাইব্রিড জাতের ফুলকপির মধ্যে রয়েছে কিরন যার ১০ গ্রামের দাম ৭২০ টাকা। হাইব্রিড জাতের ফুলকপি কিরনের রয়েছে নিমোক্ত বৈশিষ্ট। যেমন, ফুলকপি কিরণ জাতটি বৃষ্টি সহনশীল এবং বেশ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।

এ জাতের ফুলকপিতে কালো পচা রোগ (ব্লাকরট) দেখা যায় না। এই কপির পাতাগুলি খাড়া প্রকৃতির হয়ে থাকে যার কারণে সুর্যের আলো সরাসরি ফুলকপির উপর পড়ে না ফলে ফুলকপির রঙ সাদা থাকে।

কিরন ফুলকপি খুব টাইট হয়ে থাকে এবং দীর্ঘ পরিবহন করলেও ফুলকপি ভালো থাকে।

এছাড়া উচ্চফলনশীল মারইয়াম -১ ফুলকপি বীজ (হাইব্রিড) এর বীজের দাম ৫ – ১০ গ্রামের দাম ৬০০- ৭৫০ টাকা। উচ্চফলনশীল মারইয়াম -১ ফুলকপি বীজ (হাইব্রিড) এর বৈশিষ্ট যেমন, আকর্ষণীয় রঙ ও সাইজের জন্য এই জাতটি বাংলাদেশের কৃষকদের প্রথম পছন্দ।

উচ্চ ফলনশীল এই জাতের ফুলকপি অধিক ফলনশীল। উচ্চমাত্রায় ভাইরাস সহনশীল জাতের মধ্যে এই জাতের ফুলকপি অন্যতম। এটি উচ্চ ফলনশীল আগাম হাইব্রিড জাতের ফুলকপি। বপন সময়কালঃ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বপন করা যায়। মারইয়াম জাতটিতে কালো পচা রোগ (ব্লাকরট) দেখা যায় না এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে গাছ নষ্ট হয় না।

কোন বীজে ও কিভাবে ফুলকপি চাষ করবেন ?

বাংলাদেশে কিরন, মারইয়াম, মাঘী, অগ্রহায়ণী, পৌষালী, বারি ফুলকপি-১, ২ ইত্যাদি বিভিন্ন জাতের ফুলকপি পাওয়া যায়।

প্রতি শতকে বীজের পরিমাণ দুই গ্রাম। বীজতলার জন্য ৩ ×১ মিটার মাপের ১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করলে ভাল হয়। বীজতলার উপরের স্তরে ১:১ অনুপাতে পচা গোবর/আবর্জনা সার এবং দো-আঁশ মাটির মিশ্রণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর তিন-চার সপ্তাহ পলিথিন দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে শোধনের পর পাঁচ সে. মি. দূরে দূরে লাইনে ছিটিয়ে ১০ গ্রাম বীজ বুনতে হবে। অতিবৃষ্টি ও রোদের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য উপরে পলিথিন বা চাটাইয়ের আচ্ছাদন দিতে হবে।

দশ দিন পর দ্বিতীয় বীজতলায় পাঁচ সে.মি. পর পর সারি করে দুই সে.মি. দূরে দূরে শেষ বিকেলে স্থানানস্তর করতে হবে। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা স্থানানস্তরের পাঁচ দিন পর বীজতলার চারায় প্রতি ১০ লিটার পানির সাথে ৩০ গ্রাম সোহাগা মিশিয়ে স্প্রে করা অত্যাবশ্যক।

প্রতি হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের জন্য ৩০০-৩৫০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন। ভালোভাবে জমি তৈরি করার পর ১০-১৫ সে.মি. উঁচু পাশাপাশি ২ টি বেডের মাঝখানে ৩০ সে.মি. চওড়া ও ২৫ সেমি গভীর নালা রাখুন।

কোন সময়ে ফুলকপি লাগানো চাষ করবেন ?

ফুলকপি চাষের উত্তম সময় শীতকাল। ঠাণ্ডা ও আর্দ্রতা জলবায়ুতে ফুলকপির ভাল ফলন পাওয়া যায়। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন ধরনের সব মাটিতে ফুলকপির চাষ ভাল হয়। ফুলকপি বপনের উপযুক্ত সময় হল আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর।

ফুলকপি শীতকালীন সবজি। ভাদ্র আশ্বিন (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) মাস বীজ বপন করতে হয় এবং কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ (মধ্য নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর) জমিতে চারা রোপন করা যায়।

চাষের মাটি কেমন হবে?

চাষের জন্য সুনিকাশিত উর্বর দোআশ ও এটেল মাটি সবচেয়ে উত্তম।

উঁচু জমি যেখানে পানি জমে না এবং সবসময় রোদ পায় এরূপ জায়গা ফুলকপি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। ফুলকপি চাষের মাটিতে যত বেশি জৈব পদার্থ থাকবে ফলন ততই ভালো হবে।

মাটির অম্লমান বা পিএইচ ৬.০-৬.৫ ফুলকপি চাষের জন্য উত্তম।

0 comments on “ফুলকপি চাষ পদ্ধতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *