Thursday, 07 July, 2022

সর্বাধিক পঠিত

ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন, লক্ষন ও প্রতিকার


ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast) একটি ছত্রাক জনিত রোগ । ধান গাছের ৩টি অংশে ধানের ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করে। গাছের আক্রান্ত অংশের ওপর ভিত্তি করে ব্লাস্ট রোগ তিনটি নামে পরিচিত যেমন- ১. পাতা ব্লাস্ট, ২. গিট ব্লাস্ট এবং ৩. নেক/শীষ ব্লাস্ট বাংলাদেশে এটি বর্তমানে ধানের অন্যতম প্রধান রোগ। ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন, লক্ষন ও প্রতিকার জেনে রাখা প্রতিজন চাষির জন্য অতিব জরুরী।

ব্লাস্ট রোগটি বোরো ও আমন মৌসুমে বেশী হয় এবং চারা অবস্থা থেকে ধান পাকার আগ পর্যন্ত যে কোন সময় এ রোগ দেখা যায়। অনুকূল অবস্থায় রোগটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। রোগপ্রবণ জাতে রোগ সংক্রমণ হলে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষতি হয়ে থাকে।

ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ

পাইরিকুলারিয়া গ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক দ্বারা ধানের ব্লাস্ট রোগ হয়ে থাকে।

রোগটি আমন ও বোরো উভয় মৌসুমেই আক্রমন করে। ধানের চারা অবস্থা থেকে ধান পাকার আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় এ রোগটি হতে পারে। বীজ, বাতাস, কীটপতঙ্গ ও আবহাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায়।

তাপমাত্রা কম বেশি উঠানামা হলে ধানের ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। রাতে ঠাণ্ডা, দিনে গরম ও সকালে পাতলা শিশির জমা হলে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। হালকা মাটি বা বেলেমাটি যার পানি ধারণক্ষমতা কম সেখানে রোগ বেশি হতে দেখা যায়।

পুষ্টি জনিত কারনে ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম পটাশ সার দিলে এ রোগের আক্রমণ বেশি হয়। দীর্ঘদিন জমি শুকনা অবস্থায় থাকলেও এ রোগের আক্রমণ হতে পারে।

বিভিন্ন ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ

পাতা ব্লাস্ট রোগের লক্ষন

ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত পাতায় প্রথমে ডিম্বাকৃতির ছোট ছোট ধূসর বা সাদা বর্ণের দাগ দেখা যায়। দাগগুলোর চারদিক গাঢ় বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে।

পরবর্তীতে এ দাগ ধীরে ধীরে বড় হয়ে চোখের আকৃতি ধারণ করে। অনেক দাগ একত্রে মিশে পুরো পাতাটাই মেরে ফেলতে পারে। এ রোগে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হলে জমিতে মাঝে মাঝে পুড়ে যাওয়ার মতো মনে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে খোল ও পাতার সংযোগস্থলে কাল দাগের সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তীতে পচে যায় এবং পাতা ভেঙে পড়ে ফলন বিনষ্ট হয়।

ধানের বিভিন্ন ব্লাস্ট রোগের লক্ষন
গিঁট বা নোড ব্লাস্ট রোগের লক্ষন

ধান গাছের থোড় বের হওয়ার পর থেকে এ রোগ দেখা যায়। ধান গাছের গোড়ের গিঁটে কালো রঙের দাগ সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে এ দাগ বেড়ে গিঁট পচে যায়, ফলে ধান গাছ গিঁট বরাবর ভেঙে পড়ে।

নেক বা শীষ ব্লাস্ট রোগের লক্ষন

এ রোগ হলে শীষের গোড়া অথবা শীষের শাখা প্রশাখার গোড়ায় কাল দাগ হয়ে পচে যায়। শীষ অথবা শীষের শাখা প্রশাখা ভেঙে পড়ে। ধান চিটা হয়।

ধানের ব্লাস্ট রোগের প্রতিকারে করনীয় কি ?

রোগ প্রতিরোধী ধান জাত চাষ করতে হবে।

মাটিতে জৈব সারসহ সুষম মাত্রায় সব ধরনের সার ব্যবহার করতে হবে।

আক্রান্ত জমির খড়কুটা পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং ছাই জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

সুস্থ গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে, দাগি বা অপুষ্ট বীজ বেছে ফেলে দিয়ে সুস্থ বীজ ব্যবহার করতে হবে।

রোগের আক্রমণ হলে জমিতে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।

জমিতে সব সময় পানি রাখতে হবে।

ধানের ব্লাস্ট রোগের আক্রমনে ঔষধ প্রয়োগ

এ রোগের আক্রান্তের শুরুতে হেক্টরপ্রতি ৪০ কেজি (বিঘাপ্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।

এ ছাড়া ট্রাইসাইক্লাজল (ট্রুপার ৭৫ ডব্লিউপি) বা টেবুকোনাজল + ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রবিন (নাটিভো৭৫ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

সূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস

0 comments on “ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন, লক্ষন ও প্রতিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!