Friday, 30 January, 2026

গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাত: মাসকোভি হাঁস পালন


গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাঁস পালন একটি লাভজনক ও টেকসই উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে মাসকোভি হাঁস (যাকে অনেকেই ‘চীনা হাঁস’ নামে চেনেন) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সহজ পালন পদ্ধতি, কম খরচে অধিক মুনাফা এবং পুষ্টিকর ডিম ও মাংসের উৎস হওয়ায় এটি বাংলাদেশের কৃষক ও খামারিদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।

মাসকোভি হাঁসের বৈশিষ্ট্য

মূলত দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার প্রজাতি হলেও মাসকোভি হাঁস এখন বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে পালন করা হয়। এদের মাথায় লাল কারুনকেল (গুটির মতো অংশ) থাকায় সহজেই শনাক্ত করা যায়।

আরো পড়ুন
বড় ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা পেলেও কৃষকদের বেলাতেই বাধা: কৃষি উপদেষ্টা
বড় ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা পেলেও কৃষকদের বেলাতেই বাধা: কৃষি উপদেষ্টা

বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ ও প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও দেশের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষকদের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি Read more

বস্ত্র খাতে চরম বিপর্যয়: সুতার আমদানিশুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব কারখানা বন্ধ?
বস্ত্র খাতে চরম বিপর্যয়: সুতার আমদানিশুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব কারখানা বন্ধের আলটিমেটাম

দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতে এক অভূতপূর্ব সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি করা সুতার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অস্তিত্ব সংকটে Read more

  • একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হাঁসের ওজন গড়ে ৪.৫ থেকে ৫ কেজি

  • মাদি হাঁসের ওজন সাধারণত ২ থেকে ২.৫ কেজি

সহজ ও কম খরচে পালন পদ্ধতি

মাসকোভি হাঁস পালন অত্যন্ত সহজ। বড় খামার বা বিশেষ অবকাঠামো ছাড়াই বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় বা খোলা জায়গায় এদের রাখা যায়।

  • এরা ধানক্ষেত বা পতিত জমিতে ঘুরে পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, যা জমির জন্য উপকারী।

  • রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, ভাতের মাড়, শাকসবজি বা ধানের ভূষি দিয়েই এদের খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব।

  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় নিউক্যাসেল ডিজিজ বা বার্ড ফ্লুর মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম।

ডিম ও মাংসের উৎপাদন

  • একটি মাদি হাঁস বছরে ৬০ থেকে ১২০টি ডিম দেয়।

  • প্রতিটি ডিমের ওজন ৭৫–৮৫ গ্রাম, যা সাধারণ হাঁসের ডিমের চেয়ে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।

  • ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ৩৫ দিন সময় লাগে।

  • মাংসের চাহিদা বাজারে বেশি থাকায় এটি লাভজনক।

অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ

  • মাসকোভি হাঁসের মল মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা হাঁস-মাছ সমন্বিত চাষে বাড়তি আয় বয়ে আনে।

  • এই মল জৈব সারের ভালো উৎস, যা কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমায়।

  • গ্রামীণ নারীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী—অনেকে বাড়িতে বসে মাসকোভি হাঁস পালন করে বছরে ১ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।

বাজারের চাহিদা ও উন্নত জাত

বর্তমানে বাজারে কিউবিয়ান হোয়াইট বা হাইব্রিড মাসকোভি হাঁসের জাত পাওয়া যায়, যা দ্রুত বড় হয় এবং বেশি ডিম ও মাংস দেয়। শহরাঞ্চলেও এর চাহিদা বাড়ছে।

সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা

  • বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট মাসকোভি হাঁসের উন্নত জাত ও পালন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে।

  • এফএও (FAO)-এর মতো সংস্থাগুলো টেকসই খামার ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

মাসকোভি হাঁস পালন শুধু একটি আয়ের উৎসই নয়, বরং এটি গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে এই খাত বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।

তথ্যসূত্র:

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)

0 comments on “গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাত: মাসকোভি হাঁস পালন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ