Thursday, 15 October, 2026

ঝিনাইদহে আগাম কুল চাষে লাখপতি শেখ রাসেল


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শেখ রাসেল আহম্মেদ দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের টক কুল আবাদ করেছেন।

গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তিনি কুল বিক্রি শুরু করেছেন। গত দুই মাসে তিনি প্রায় লাখ টাকার টক কুল বিক্রি করেছেন।

তিনি জানান, প্রথমে ১৮০ টাকা দরে এই টক কুল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কুল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

আরো পড়ুন
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার

রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৫০ টাকার পটাশিয়াম (এমওপি) ও ডিএপি সার কেনার Read more

কক্সবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান চাষ
কক্সবাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান চাষ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। ফলে স্বাভাবিক কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকায় Read more

তরমুজ ও পেয়ারা বাগানের সঙ্গে ‘সাথি ফসল’ হিসেবে দুই বিঘা জমিতে ২০০টি আগাম জাতের টক কুল গাছ পরীক্ষামূলকভাবে লাগান। যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার এক চাষির কাছ থেকে ৬৫ টাকা দরে তিনি প্রতিটি চারাগাছ ক্রয় করেন।

প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি তরমুজ ও পেয়ারা বাগানের মধ্যে গাছগুলো লাগান। তরমুজ বিক্রি করেছেন অনেক আগে। সেই সাথে বড় হয়ে গেছে পেয়ারাগাছও। আর তার মধ্যেই এখন নভেম্বর মাস থেকে টক কুল উঠে গেছে।

তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে কুলের চারা, সেচ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি জমিতে কুল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার। অর্থাৎ দুই বিঘা জমিতে তিনি খরচ বাদে চার লাখ টাকার অধিক লাভ পাবেন বলে আশা করছেন।

বর্তমানে প্রতিদিনই তার জমি থেকে কুল তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন তিন থেকে চারজন শ্রমিক তার কুলক্ষেত থেকে কুল তুলে পরিমাপ ও প্যাকেটজাত করে ঢাকায় পাঠানোর কাজ করছেন। আর প্রতিটি কুলগাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি করে কুল পাওয়া যাচ্ছে।

রাসেল জানান, সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে কুল ওঠে। তিনি নভেম্বর থেকেই কুল বিক্রি শুরু করেছেন। এ ছাড়া টক কুলে রোগ-বালাই কম, লাভও বেশি। বর্তমানে পাইকাররা তার ক্ষেতে এসে কুল নিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষি উদ্যোক্তা ও চাষি আসছেন তার আগাম কুল দেখার জন্য। তিনি খুব শিগগিরই চারা বিক্রিও শুরু করবেন বলেও জানান।

ত্রিলোচনপুর ইউপির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, বাউকুলের তুলনায় টক কুল আবাদে খরচ কম, আবার চাহিদাও ভালো। আগাম এ কুল লাগিয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শেখ রাসেল আহম্মেদসহ আরো চারজন আগাম জাতের টক কুল আবাদ করেছেন। তারা দামও ভালো পাচ্ছেন। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।

0 comments on “ঝিনাইদহে আগাম কুল চাষে লাখপতি শেখ রাসেল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ