
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এবং সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের তুলনায় টনপ্রতি ১০ মার্কিন ডলার কমে ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
গতকাল (২৮ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভিয়াচেস্লাভ সেনত্যুরিন। তথ্যটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২৮০,০০০ টন ইউরিয়া সরবরাহের প্রস্তাব
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি এফইসি প্রডিনটর্গ’ (JSC FEC Prodintorg) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডিষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ২ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার সরবরাহ করতে চায়।
রুশ সারের এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়িত হলে দেশীয় কৃষকদের জন্য কম দামে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এতে সরকারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সানফ্লাওয়ার অয়েল ও ডাল সরবরাহে আগ্রহ
বৈঠকে রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউরিয়ার পাশাপাশি সূর্যমুখী তেল (Sunflower Oil), হলুদ মটরশুঁটি (Yellow Beans), ছোলা, মসুর ডাল ও মুগ ডাল সরবরাহে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির রাশিয়ার এই সহযোগিতাপূর্ণ প্রস্তাবের প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশে গম এবং মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সারের নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার জন্য রাশিয়ার সরকারের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এক নজরে বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের বর্তমান চিত্র:
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| বার্ষিক জাতীয় চাহিদা | প্রায় ২৬ লাখ থেকে ২৭ লাখ টন। |
| বর্তমান মজুত (২৩ জুলাই পর্যন্ত) | প্রায় ৬.২ লাখ টন (কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র)। |
| রাশিয়ার নতুন ছাড় | বিশ্ববাজার বা অন্যান্য দেশের দরের চেয়ে টনে ১০ ডলার কম। |
| প্রস্তাবিত ইউরিয়ার পরিমাণ | ২,৮০,০০০ (২.৮ লাখ) টন। |
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ২৬ লাখ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা থাকে। বর্তমানে দেশের সরকারি গুদামগুলোতে সার মজুতের সার্বিক পরিস্থিতি বেশ ভালো; ২০২৩ সালের ২৩ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। রাশিয়ার এই সাশ্রয়ী মূল্যের সার সরবরাহ শুরু হলে আসন্ন কৃষি মৌসুমে সারের দাম স্থিতিশীল রাখা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

