চিংড়ি চাষে পানির গুণমানই হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাই ঘেরে পোনা ছাড়ার আগে এবং চাষ চলাকালীন পানি শোধন করা অত্যন্ত জরুরি। পানি শোধন না করলে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষতিকর পরজীবীর কারণে পুরো ঘেরের চিংড়ি মারা যেতে পারে।
নিচে পানি শোধনের কার্যকর পদ্ধতিগুলো তুলে ধরা হলো:
১. পোনা ছাড়ার আগে পানি শোধন (প্রাথমিক ধাপ)
ঘেরে নতুন পানি নেওয়ার পর পোনা ছাড়ার অন্তত ৭-১০ দিন আগে নিচের নিয়মে শোধন করুন:
ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ: এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। প্রতি শতাংশে (১ ফুট পানির গভীরতায়) ৩০০-৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করুন। এটি পানিতে থাকা ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটোরিয়া ধ্বংস করে।
পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট: যদি ব্লিচিং না পান, তবে প্রতি শতাংশে ৫-১০ গ্রাম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে দিতে পারেন। এটি পানিকে জীবাণুমুক্ত করে।
চুন প্রয়োগ: পানি ঘোলাটে হলে বা অম্লতা (pH) বেড়ে গেলে শতাংশ প্রতি ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করুন। এটি পানি পরিষ্কার রাখে এবং পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে।
২. চাষ চলাকালীন পানি শোধন ও ব্যবস্থাপনা
চিংড়ি বড় হওয়ার সময় পানির পরিবেশ ঠিক রাখতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
প্রোবায়োটিক ব্যবহার: বর্তমানে আধুনিক চিংড়ি চাষে ‘ওয়াটার প্রোবায়োটিক’ খুব জনপ্রিয়। এটি ক্ষতিকর গ্যাস শুষে নেয় এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে পানিকে সতেজ রাখে।
লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ (বাগদার জন্য): লোনা পানির বাগদা চাষে লবণাক্ততা হুট করে কমে গেলে লবণের পানি বা খনিজ (Minerals) যোগ করতে হয়।
দ্রবীভূত অক্সিজেন বৃদ্ধি: পানিতে অক্সিজেনের অভাব হলে চিংড়ি ভেসে ওঠে। এক্ষেত্রে এরটর (Aerator) চালানো বা অক্সিজেন ট্যাবলেট ব্যবহার করা জরুরি।
৩. ফিটকিরি ও জিউলাইট ব্যবহার
ফিটকিরি: পানির ঘোলাটে ভাব দূর করতে প্রতি শতাংশে ৫০-১০০ গ্রাম ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়। তবে এটি ব্যবহারের পর পানির পিএইচ (pH) পরীক্ষা করে নিতে হবে।
জিওলাইট (Zeolite): তলার বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে এবং পানিকে স্বচ্ছ রাখতে জিওলাইট পাউডার ব্যবহার করা হয়।
৪. পানির আদর্শ মান (চেকলিস্ট)
শোধন করার পর আপনার পানি এই মানে আছে কিনা নিশ্চিত করুন:
| প্যারামিটার | আদর্শ মান |
| :— | :— |
| pH (অম্লতা) | ৭.৫ থেকে ৮.৫ |
|অক্সিজেন | ৫ পিপিএম (ppm) এর উপরে |
| স্বচ্ছতা | ২৫-৩৫ সেমি (সেকি ডিস্ক দিয়ে পরিমাপ্য) |
| অ্যামোনিয়া | ০.০১ পিপিএম এর নিচে |
সাবধানতা:
কখনও সরাসরি কড়া রোদে বা দুপুরে ঔষধ প্রয়োগ করবেন না। সব সময় ভোরে বা সন্ধ্যার আগে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঔষধ বা চুন প্রয়োগ করা ভালো।

