Sunday, 01 November, 2026

দামুড়হুদায় আঙুর চাষে রানার বাজিমাত: এক বিঘা জমিতেই লাখ টাকার স্বপ্ন


আঙ্গুর চাষে সফলতা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন কৃষক রানা আলি। শখের বশে শুরু করলেও এখন তাঁর বাগানে ঝুলছে থোকায় থোকায় আঙুর। রানার এই সাফল্যে নিজে যেমন আশাবাদী, তেমনি আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আঙুর চাষে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

ইউটিউব থেকে বাস্তবায়ন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে উৎসাহিত হন রানা আলী। পরে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের পরামর্শে তিনি এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষের সাহসী পদক্ষেপ নেন। জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদোওয়া মাঠে নিজের হলুদ গোলাপের বাগানেই আট মাস আগে আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি।

আরো পড়ুন
তেলাপিয়া মাছের শীতকালীন রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিচর্যা

বাণিজ্যিক মৎস্য চাষে তেলাপিয়া অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় মাছ। তবে শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে পুকুরের পরিবেশ এবং মাছের Read more

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কম খরচে লাভজনক আনারকলি (Passion Fruit) চাষ পদ্ধতি ও যত্ন
বাংলাদেশে আনারকলি চাষ

বাংলাদেশের কৃষিতে সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রচলিত ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক নাম হলো Read more

দেশি-বিদেশি জাতের সমাহার

রানা আলি কেবল দেশি চারা নয়, বরং ভারত থেকে বাইকুনুর, গ্রিনলং, অ্যাকোলোর, জয়সিডলেস ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের চারা সংগ্রহ করে আবাদ শুরু করেন। চারা রোপণের মাত্র তিন মাস পর থেকেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে আট মাসের মাথায় পুরো বাগান আঙুরে ভরে গেছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই এই ফল বাজারে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

খরচ ও আয়ের হিসাব

উদ্যোক্তা রানা আলি জানান, জমি প্রস্তুত, চারা কেনা, সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাগানের পরিচর্যায় নিয়মিত ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। তিনি বলেন,

“বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও আমি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারব। সেই হিসেবে বাগান থেকে প্রায় সাত লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।”

চারা বিক্রি থেকেও লাভ

আঙুর ফলের পাশাপাশি রানা আলি কলমের চারা উৎপাদন করেও লাভের মুখ দেখছেন। ইতোমধ্যে উৎপাদিত ১ হাজার ২০০ চারা তিনি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তাঁর লক্ষ্য আরও ১২ হাজার চারা উৎপাদন করা।

কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ

রানার এই উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় কৃষকরা ভিড় জমাচ্ছেন। দামুড়হুদা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল হতে পারে। কৃষি বিভাগ থেকে নতুন এই ফল চাষে আগ্রহী কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

0 comments on “দামুড়হুদায় আঙুর চাষে রানার বাজিমাত: এক বিঘা জমিতেই লাখ টাকার স্বপ্ন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ