Thursday, 10 September, 2026

সাদা সোনা খ্যাত বাগেরহাটে চিংড়িতে মড়ক, দিশেহারা চাষিরা


দেশের ‘সাদা সোনা’ খ্যাত বাগেরহাট জেলার বাগদা চিংড়ি ঘেরে ভয়াবহ মড়ক দেখা দিয়েছে। ভাইরাস, পানি স্বল্পতা, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং লাগাতার বৃষ্টির কারণে ভরা মৌসুমেও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার চিংড়ি চাষিরা। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

মৌসুমের শুরুতেই এই বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চিংড়ি উৎপাদনকারী এই জেলায় নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। চাষিদের অভিযোগ, ভাইরাসের পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ঘেরে চিংড়ি আশঙ্কাজনক হারে মারা যাচ্ছে। গত বছর মানসম্মত পোনার সংকট ছিল, আর এবার একের পর এক বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে মড়ক আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

চাষিদের হাহাকার

আরো পড়ুন
পেঁপের মোজাইক ভাইরাস এবং পাতা কোঁকড়ানো রোগ দমন বিস্তারিত
পেঁপের মোজাইক ভাইরাস (Mosaic Virus) এবং পাতা কোঁকড়ানো (Leaf Curl Virus) রোগ

পেঁপের মোজাইক ভাইরাস (Mosaic Virus) এবং পাতা কোঁকড়ানো (Leaf Curl Virus) রোগ দুটি পেঁপে চাষের সবচেয়ে বড় শত্রু। সরাসরি কোনো Read more

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান
ওমানে যাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। ৫ হাজার কৃষক ও ৫ হাজার মৎস্যজীবী নিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর। ভিসা চালুতে কূটনৈতিক চেষ্টা জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মোচিত হচ্ছে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার। বাংলাদেশ থেকে শিগগিরই ১০ হাজার দক্ষ ও অভিজ্ঞ Read more

চাকশ্রী বাজারের চিংড়ি চাষি মো. শাহজাহান বলেন, “গত বছর এই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ কেজি চিংড়ি ধরতাম। এখন জাল ফেললে প্রায় খালি উঠে আসে। লাখ টাকার পোনা দিয়েছি, কিন্তু ঘেরে এখন প্রায় শূন্য অবস্থা।”

রামপালের আরেক চাষি সেলিম হোসেন হতাশার সুরে বলেন, “আমাদের ঘেরের যা অবস্থা, তাতে ঋণ শোধ করাই মুশকিল হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে চাষ করা কঠিন হয়ে যাবে।”

প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের আশ্বাস

বাগেরহাট চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির তৌহিদুর রহমান সুমন এই বিষয়ে চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “বৈজ্ঞানিক উপায়ে রোগ নির্ণয় ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ভাইরাসের পাশাপাশি পানি স্বল্পতা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং একটানা বৃষ্টির কারণে নোনা পানির চিংড়ি মারা যাচ্ছে। তিনি চাষিদের পোনা নির্বাচন, ঘের প্রস্তুত ও পানি ব্যবস্থাপনার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘেরের পানি ও মাটি পরীক্ষা করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা হবে এবং ফলাফল চাষিদের জানানো হবে, যাতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন।”

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ৪৬ হাজার ৩১৩টি বাগদা চিংড়ি ঘের রয়েছে, যা ৫১ হাজার ১৫৯ হেক্টর জমি জুড়ে বিস্তৃত। গত অর্থবছরে ২০ হাজার ৯৪০ টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হলেও, এবার উৎপাদনের পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

0 comments on “সাদা সোনা খ্যাত বাগেরহাটে চিংড়িতে মড়ক, দিশেহারা চাষিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ