Saturday, 02 May, 2026

মাগুরায় সরিষা ফুলের মধু চাষে সফল বাবা-ছেলে: দেশজুড়ে বাড়ছে চাহিদা


মাগুরায় সরিষা ফুলের মধু চাষে সফল বাবা-ছেলে

মাগুরা মাগুরার দিগন্তজোড়া হলুদ সরিষার মাঠ এখন কেবল নয়নাভিরাম দৃশ্যই নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরিষা ফুল থেকে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সদর উপজেলার ডেফুলিয়া গ্রামের উদ্যোক্তা আল আমিন ও তাঁর বাবা সাবু মোল্লা। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত ‘খাদিজা মৌ খামার’ এখন সফলতার এক অনন্য নাম।

মৌ-বক্সে মধু সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে ৯০টি মৌ-বক্স। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চারপাশ। সাবু মোল্লা জানান, প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাস থেকে তাঁদের এই মধু সংগ্রহের ব্যস্ততা শুরু হয়। বর্তমানে ছয়জন শ্রমিকের সহায়তায় তাঁরা এই কাজ পরিচালনা করছেন। প্রতি সোমবার বক্সগুলো থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়, যা সপ্তাহে প্রায় ২ থেকে ৩ মণে দাঁড়ায়।

আরো পড়ুন
বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়: একটি জরুরি নির্দেশিকা
বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়: একটি জরুরি নির্দেশিকা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে Read more

ভাইরাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মিরসরাইয়ে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসান, ক্ষতির মুখে কৃষক
ভাইরাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মিরসরাইয়ে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসান, ক্ষতির মুখে কৃষক

চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় তরমুজ চাষে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ও আগত কৃষকেরা। ভাইরাসের আক্রমণ, প্রতিকূল Read more

দেশজুড়ে বিস্তৃত বাজার

উদ্যোক্তা আল আমিন জানান, তাঁদের উৎপাদিত মধুর খ্যাতি এখন মাগুরার গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারে এসে মধু সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই মধু ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, পটুয়াখালী ও ফরিদপুরসহ দেশের অন্তত ১০-১২টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিশুদ্ধতা ও বৈচিত্র্যের সমন্বয়

খাদিজা মৌ খামারে শুধু সরিষার মধু নয়, ঋতুভেদে কালোজিরা, ধনিয়া ও লিচু ফুলের মধুও সংগ্রহ করা হয়। আল আমিন বলেন, “ফুলের ভিন্নতা অনুযায়ী মধুর রং ও ঘনত্ব আলাদা হয়। যেমন—সরিষা ফুলের মধু স্বচ্ছ ও দানাদার হয়, আবার লিচু ফুলের মধু তুলনামূলক পাতলা। আমরা মধুতে কোনো কৃত্রিম চিনি বা উপাদান মেশাই না বলে বাজারে আমাদের মধুর ব্যাপক চাহিদা ও বিশ্বস্ততা রয়েছে।” বিশেষ করে ঔষধি গুণের কারণে কালোজিরার মধুর চাহিদাও থাকে তুঙ্গে।

বছরজুড়ে ব্যস্ততা

মধু সংগ্রহের এই ধারাবাহিকতা কেবল সরিষা মৌসুমেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাবু মোল্লা জানান, সরিষার মৌসুম শেষ হলে তাঁরা সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন লিচু বাগানে মৌ-বক্স নিয়ে মধু সংগ্রহে যান। বছরের অধিকাংশ সময় তাঁরা এই পেশায় নিয়োজিত থেকে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি খাঁটি মধুর জোগান দিয়ে জাতীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছেন।

মাগুরার এই বাবা-ছেলের সফল উদ্যোগ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

0 comments on “মাগুরায় সরিষা ফুলের মধু চাষে সফল বাবা-ছেলে: দেশজুড়ে বাড়ছে চাহিদা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ