
প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো যশোরের কেশবপুর। সাধারণত একটি কলাগাছে একটিই কলার মোচা বা থোড় আসার নিয়ম থাকলেও, এবার এক গাছেই একসঙ্গে ৩০টি কলার মোচা ধরেছে! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কেশবপুর পৌরসভার হাবাসপোল এলাকায়। এই ‘অলৌকিক’ কলাগাছটি দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কৃষকের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত উৎসুক মানুষ।
এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্য, দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থী
সরেজমিন রবিবার (২৪ মে) সকালে হাবাসপোল এলাকার কৃষক নাসির মোড়লের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। বাড়ির পাশে হাবাসপোল সড়কের ধারে লাগানো একটি সাধারণ বিচি কলাগাছ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে নয়, বরং থোকায় থোকায় বের হয়েছে ৩০টি কলার মোচা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিটি মোচাই বেশ সতেজ এবং স্বাভাবিকভাবেই বড় হচ্ছে।
এক গাছে ৩০ মোচার এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন নিজের চোখে এই দৃশ্য দেখতে।
উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে আসা শওকত হোসেন (৫৫) নামের এক দর্শনার্থী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন:
“আমি লোকমুখে শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি। তাই নিজেই ছুটে এসেছি দেখতে। নিজের হাতে গুনে দেখলাম, গাছে ঠিক ৩০টি মোচাই রয়েছে। আমার জীবনে এক কলাগাছে এতগুলো মোচা ধরার ঘটনা আর কখনো দেখিনি।”
যা বললেন গাছের মালিক ও স্থানীয়রা
এলাকার সাবেক পৌর কাউন্সিলর আইয়ুব খান বলেন, “কৃষক নাসির মোড়লের কলাগাছে একাধিক মোচা বের হওয়ার পর থেকেই এলাকাটিতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা মানুষ এখানে ভিড় করছেন।”
বিস্ময়কর এই গাছের মালিক কৃষক নসির মোড়ল তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন:
“গত ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার এই বিচি কলাগাছটি থেকে এক এক করে ২৫-৩০টি কলার মোচা বের হয়েছে। সব কটি মোচাই বেশ সতেজ আছে। গাছের মূল মোচাটি এখনো বেশ বড় রয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে আরও কিছু মোচা বের হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কলার মোচা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্তের মানুষ আসছেন, এটি দেখতেই আমার খুব ভালো লাগছে।”
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক বিষয় নয়। মূলত উদ্ভিদের হরমোনজনিত পরিবর্তন বা জিনগত বৈশিষ্ট্যের (Genetic Mutation) আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এমনটি ঘটে থাকে। বিরল হলেও মাঝেমধ্যে প্রকৃতিতে এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখা যায়। তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যাই হোক, নসির মোড়লের এই ৩০ মোচার কলাগাছটি এখন পুরো যশোর জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

