বাংলাদেশে ভেনামি চিংড়ি চাষের ওপর আরোপিত পূর্বের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীতা হয় আজ ২১ মে ২০২৬ তারিখে মৎস্য-৫ শাখা থেকে জারিকৃত এক সরকারি চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমোদন ও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ভেনামি চিংড়ির পোনা ও ব্রুড আমদানিসহ ভেনামি চাষের অনুমোদন স্থগিত সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে । এখন থেকে নির্ধারিত নীতিমালা ও বায়োসিকিউরিটি (জৈব-নিরাপত্তা) অনুসরণ করে ভেনামি পিএল (Post Larvae), পিপিএল (Parent Post Larvae) এবং ব্রুড (Brood) উৎপাদন ও আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় হ্যাচারি এবং বাণিজ্যিক খামারের অনুমোদন দেওয়া হবে ।
টঙ্গীতে বসছে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার
বিদেশ থেকে জীবন্ত মৎস্য সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে ক্ষতিকর রোগ জীবাণুর বিস্তার প্রতিরোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার । এর অংশ হিসেবে গাজীপুরের টঙ্গীতে মৎস্য অধিদপ্তরের নিজস্ব জমিতে জরুরী ভিত্তিতে একটি সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন করা হবে । এর ফলে আমদানিকৃত পোনা বা ব্রুড স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করবে ।
চাষিদের সুবিধার্থে ১১ দফা সিদ্ধান্ত
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভেনামি চিংড়ি চাষ সহজ করতে এবং রপ্তানি বাড়াতে মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ: ভেনামি চাষের অনুমোদন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে স্থানান্তর করা হবে এবং দ্রুত একটি যুগোপযোগী নতুন নীতিমালা তৈরি করা হবে ।
আমদানি নির্ভরতা হ্রাস: দেশের বর্তমান হ্যাচারিগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে পিএল (PL) আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে এবং হ্যাচারিগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হবে ।
ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব: চিংড়ি চাষিদের সুবিধার্থে স্থানীয় পর্যায়ে চিংড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন পরিহার এবং পিপিএল ও ব্রুড আমদানির ওপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (NBR) যৌক্তিক প্রস্তাব পাঠানো হবে ।
অবকাঠামো ও নদী ড্রেজিং: খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের স্লুইস গেটগুলোকে চিংড়ি চাষ বান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে । এছাড়া ষোলমারি নদীসহ প্রয়োজনীয় নদী ও খাল খননের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে ।
অবৈধ পোনা আমদানি রোধ: প্রতিবেশী দেশ থেকে অবৈধ পথে ভেনামির পিএল (পোকা পোনা) আনা বন্ধ করতে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে ।
ব্রুড ব্যাংক স্থাপন: রোগমুক্ত চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যে স্পেসিফিক প্যাথোজেন ফ্রি (SPF) ব্রুড তৈরির জন্য বিশেষ ‘ব্রুড ব্যাংক’ ও ‘ব্রুড ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’ (BMC) স্থাপন করা হবে ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই পত্রে উক্ত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছে ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করে ভেনামি চিংড়ি চাষের এই গ্রিন সিগন্যাল দেশের মৎস্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে এবং ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে ।

