Friday, 10 April, 2026

পাহাড়ে বারি-৪ লাউ চাষে সাফল্য: কাপ্তাইয়ের রাইখালী গবেষণা কেন্দ্রে বাম্পার ফলন


লাউ চাষের বাম্পার ফলন

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলাস্থ রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (পিএআরএস) বারি-৪ জাতের লাউ চাষে বড় ধরনের সাফল্য লাভ করেছে। যদিও গবেষণা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই জাতের লাউ চাষ করে আসছিল, তবে এবারই প্রথম তারা ব্যাপক আকারে ও সফল ফলন নিশ্চিত করতে পেরেছে।

বিস্তীর্ণ মাচায় লাউয়ের সমাহার

জানা যায়, পাহাড়ে চাষ উপযোগী ফসল ও কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় রাইখালী ইউনিয়নে প্রায় ১০০ একর জমিতে এই গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ফসল নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চালায় প্রতিষ্ঠানটি।

আরো পড়ুন
লাভজনক হলুদ চাষে কৃষকের করণীয়: আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যা
হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল।

হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে বেশি ফলন Read more

লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি
লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি

গলদা (Macrobrachium rosenbergii) হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্বাদুপানি/লবনাক্ত পানির বড় চিংড়ি। এটি ৫ ppm‑এর নিচে লবণাক্ততার ঈষৎ লোনা পানিতে ভালো Read more

সম্প্রতি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকার মাচাজুড়ে শোভা পাচ্ছে বারি-৪ জাতের লাউ গাছ। সারি সারি লাউ ঝুলছে, যা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি পরিপক্ব।

বারি-৪ লাউয়ের বিশেষত্ব

গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, এই জাতের লাউয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ সহনশীল এবং সারাবছর চাষ করা যায়। তাই পার্বত্য অঞ্চলে চাষের জন্য এটি একটি অত্যন্ত উপযোগী জাত।

  • ফলের বৈশিষ্ট্য: লাউগুলো গাঢ় সবুজ রঙের এবং গায়ে সাদাটে দাগ থাকে।

  • ফলন: প্রতিটি গাছে সাধারণত ১০-১২টি ফল পাওয়া যায়।

  • ওজন ও আকার: এর গড় ওজন প্রায় আড়াই কেজি। লাউগুলো লম্বায় ৪২-৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১২-১৩ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।

  • ফসল সংগ্রহের সময়: চারা রোপণের মাত্র ৭০-৮০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছের জীবনকাল থাকে ১৩০-১৫০ দিন।

  • হেক্টর প্রতি ফলন: প্রতি হেক্টরে ফলন হয় ৮০-৮৫ টন

ড. জিয়াউর রহমান আরও জানান, জাতটি তাপসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকেরা বছরজুড়ে এটি চাষ করে লাভবান হতে পারেন। বাংলাদেশের সব এলাকার পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলেও এই জাতটি চাষ করার জন্য খুবই উপযোগী।

বীজ ও চারা সরবরাহের উদ্যোগ

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য ফাল্গুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে এর চাষ শুরু করা যায়। এছাড়া, চৈত্র মাসে বীজ বপন করে বৈশাখ মাসে চারা রোপণ করাও সম্ভব।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে গবেষণা কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণে বীজের সংগ্রহ আছে। স্থানীয় চাষিরা চাইলে বিনা মূল্যে গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই বীজ অথবা চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।

0 comments on “পাহাড়ে বারি-৪ লাউ চাষে সাফল্য: কাপ্তাইয়ের রাইখালী গবেষণা কেন্দ্রে বাম্পার ফলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ