Wednesday, 08 April, 2026

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন শার্শার চাষিরা


যশোরের শার্শার কৃষকেরা গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন। শিম এবং টমেটো চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন। শীত মৌসুমের ফসল অসময়ে হাতে পেয়েছেন কৃষকেরা। এ যেন সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। গ্রীষ্মকালীন সবজি সামান্য জমিতে চাষ করে বেশি মুনাফা পাওয়ার কারণে তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে।

যশোরের শার্শায় সরাসরি গিয়ে দেখা যায়, এই উপজেলার নারায়ণপুর, শ্যামলাগাছি, কাশিপুর গ্রামের বিভিন্ন মাঠে গ্রীষ্মকালীন শিম ও টমেটোর চাষ হচ্ছে প্রচুর। এ বছর গরমের সময়ও টমেটো ও শিম চাষে সফলতার মুখ দেখছেন চাষিরা তার বড় কারণ আবহাওয়া অনুকূলে থাকা।  এলাকা ছেয়ে গেছে বেগুনি আর হলুদ ফুলে। বেনাপোল এবং নাভারনের কাঁচা বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি শিম ৭৫-৮০ টাকা এবং টমেটো ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি ভাবে বিক্রয় হয়েছে।

আরো পড়ুন
লাভজনক হলুদ চাষে কৃষকের করণীয়: আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সঠিক পরিচর্যা
হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল।

হলুদ শুধু একটি অতি প্রয়োজনীয় মশলাই নয়, এটি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে বেশি ফলন Read more

লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি
লবনাক্ত পানিতে গলদা চিংড়ি চাষে করণীয় ধাপসমূহ: লাভজনক আধুনিক পদ্ধতি

গলদা (Macrobrachium rosenbergii) হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্বাদুপানি/লবনাক্ত পানির বড় চিংড়ি। এটি ৫ ppm‑এর নিচে লবণাক্ততার ঈষৎ লোনা পানিতে ভালো Read more

পলি শেড আর নিচে বেড করে টমেটোর চাষ হচ্ছে শার্শা উপজেলায়। ভাল ফলন এবং বাজারে রয়েছে পর্যাপ্ত চাহিদা। পাশাপাশি দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা দেখছেন অধিক লাভের সম্ভাবনা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাহার, বিনা টমেটো-৪, বিনা টমেটো-৫, , বারি টমেটো-৩, ৪ বারি টো টো-২ বা রতন এবং হাইব্রিড এর মধ্যে সবল, মিন্টু, বারি টমেটো-৫ জাতের টমেটোর খুব ভাল ফলন হচ্ছে। চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে জাতভেদে পাকা টমেটো সংগ্রহ  করা যায়। টমেটো সংগ্রহ করা যায় কাঁচা, পাকা দুই অবস্থাতেই। গাছ প্রতি  অন্তত সাত থেকে আটবার সংগ্রহ করা যায় টমেটো। টমেটোর ফলন জাতভেদে ৮০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের শিম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয় প্রতি বিঘা শিম চাষে। বাজারে ভাল দাম থাকায় টমেটোর খরচ একটু বেশি হলেও লাভ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বেনাপোলের নারায়ণপুর গ্রামের কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ করেছেন  তারা ।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, যশোর অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে চাষিদের মধ্যে।  নতুন নতুন সবজি উদ্ভাবনে চাষিরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এগিয়ে আসছেন। যার কারণে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ বেড়ে গেছে। এতে সারাবছরই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন সবজি এবং চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

0 comments on “গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন শার্শার চাষিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ