Thursday, 02 July, 2026

উৎপাদন খরচ কমাতে বড় সুখবর: বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন খামারিরা


বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন খামারিরা

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য, গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সরকার। খামারি ও হ্যাচারি মালিকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট (ছাড়) দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ও বরাদ্দ

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে ১৬টি খাতে এই বিদ্যুৎ রিবেট সুবিধা চালু রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরো পড়ুন
মৎস্য চাষে নতুন বিপ্লব: বাকৃবি গবেষকদের উদ্ভাবনে ফিশমিলের বিকল্প দেশীয় ‘অণুশৈবাল’

বাংলাদেশের মৎস্য চাষের অন্যতম প্রধান ব্যয়বহুল উপাদান হলো মাছের খাবার বা অ্যাকোয়াফিড। বিশেষ করে ফিডে ব্যবহৃত আমিষের মূল উৎস ‘ফিশমিল’ Read more

বাকৃবি গবেষকদের ১৫ বছরের সাফল্য: নতুন রঙিন জাতের মুরগি উদ্ভাবন, মিলবে অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ মাংস
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকদের ১৫ বছরের গবেষণায় নতুন রঙিন জাতের মুরগি উদ্ভাবন। অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ মাংস ও খামারিদের জন্য উচ্চ মুনাফার সুযোগ।

দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস গবেষণার পর বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন উপযোগী একটি নতুন রঙিন গোশত উৎপাদনকারী মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি Read more

যে সব খাত ২০% বিদ্যুৎ ছাড় পাবে:

নতুন এই নির্দেশনার ফলে মূলত ৪টি বৃহৎ উপ-খাত সরাসরি উপকৃত হবে:

  • খাদ্য উৎপাদন শিল্প: গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খাদ্য এবং ফিস ফিড (মাছের খাবার) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

  • পোল্ট্রি শিল্প: বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার ও সংশ্লিষ্ট হ্যাচারি।

  • দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ: দুধ পাস্তুরিতকরণ ও গুঁড়ো দুধ উৎপাদন।

  • দুগ্ধজাত পণ্য: আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, মিষ্টান্ন, পনির, ঘি, মাখন, চকলেট ও দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

প্রত্যাশিত প্রভাব

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ভর্তুকির ফলে: ১. প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ২. প্রাণিজ আমিষের (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। ৩. কৃষি ও ডেইরি শিল্পে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। ৪. নিরাপদ ও মানসম্মত আমিষ উৎপাদনে দেশ আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সুবিধা গ্রহণের জন্য খামারিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এই রিবেট সরাসরি বিলে সমন্বয় করা হবে।

0 comments on “উৎপাদন খরচ কমাতে বড় সুখবর: বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন খামারিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ