Sunday, 25 October, 2026

আঙ্গুর চাষ পদ্ধতির সুমিষ্ট সূচনা


মাচায় আঙ্গুর

আঙ্গুর, খুব জনপ্রিয় একটি রসালো ফল। আঙ্গুর চাষ বাংলাদেশে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে আঙ্গুর চাষ করলে আঙ্গুর টক হয়। এমনভাবে ছোট বেলায় আঙ্গুর নিয়ে আমরা সবাই প্রায় গল্প শুনেছি। তাই পরিচিত এই ফল নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আর আঙ্গুর ফল টক প্রবাদটি সকলের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয়। প্রায়শই কোন কাজে বিফল হলেই লোকমুখে শোনা যায় এই প্রবাদ।

আঙ্গুর চাষ বাংলাদেশে মাটিতে হবে এমন কথার মুখে বুড়ো আংগুল দিয়েছে এবং আঙ্গুর চাষ পদ্ধতির সুমিষ্ট সূচনা করেছেন চুয়াডাঙ্গার মামা – ভাগ্নে।সেই আঙ্গুর ফল চাষে বাণিজ্যিক ভাবে সফলতা পেয়েছেন মামা-ভাগ্নে। এখানেও সেই পুরাতন বাংলা প্রবাদ মনে চলে আসে- মামা-ভাগ্নে যেখানে সেখানে আপদ থাকে না।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় মামা-ভাগ্নের এই আঙ্গুর চাষে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। তাদের মতে বাণিজ্যিক চাষ করে দেশে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

আরো পড়ুন
পেঁয়াজ পচন ঠেকাতে বাকৃবি গবেষকদের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর দেশের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়, যার ফলে বছরের শেষভাগে এসে বাংলাদেশকে আমদানির ওপর নির্ভর Read more

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ বাঁওড়ে মাছ উৎপাদন বাড়াতে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় ছড়িয়ে থাকা ২৯টি বাঁওড়ে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রকৃত জেলেদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ৪৭ কোটি Read more

মাচায় আঙ্গুর
আঙ্গুর

মামা অর্থাৎ আমিরুল ইসলাম বলেন যে প্রায় ১ বছর আগে তিনি ভারত ভ্রমনে যান। সেখানে তিনি মুম্বাইয়ের নাছিকের আঙ্গুর বাগানে গিয়ে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে জানেন। ফেরার সময় ২৫টি চারা সাথে নিয়ে আসেন। কয়েকদিন সংরক্ষণ করার পর পাঁচ কাঠা জমিতে সেগুলো রোপন করেন তিনি। সেসময় যেহেতু কৃষি সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা না থাকায় তিনি স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। কিন্তু তিনি বাগানে আসেননি। এসময় তার চারটি চারা মারা যায়। এতে তিনি ভাবনায় পড়ে যান।

সে সময় তিনি কৃষি বিষয়ে অভিজ্ঞ ভাগ্নে তরিকুল ইসলামের সাথে পরামর্শ করে দুজনে মিলে আঙ্গুরগাছের পরিচর্যা করা শুরু করেন। অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় ছয় মাসে যখন কিছু গাছে আঙ্গুর ফল আসে। তবে এই অল্প ফল পেয়ে তিনি দমে যান নি। ভারতে পরিচিত হয়েছিলেন কিছু কৃষকের সাথে, তাদের সাথে যোগাযোগ পরামর্শ করে পরের বছরে আবার শুরু করেন। এবার আর বিফলে যায়নি, পরিশ্রমের ফসল হিসেবে মাচায় থোকায় থোকায় আঙ্গুরে ভরে যায়। আঙ্গুর গুলো পাকা ও মিষ্টিও হয়। তাদের মতে প্রতিটি গাছে প্রায় ২০-৩০ কেজি আঙ্গুর তারা পাবেন। একই সাথে তিনি জানান যে আরও দুইবিঘা জমিতে যদি তিনি চাষ করেন তবে তাতে এক লাখ টাকা খরচ হবে, কিন্তু ফলন ভালো হলে ৮-১০ লাখ টাকার আঙ্গুর ফল বেচতে পারবেন।

মামা-ভাগ্নের মতে এভাবে ক্রমাগত চাষ করলে চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তাদের এই সফলতার গল্প এলাকায় আলোড়ন ছড়িয়েছে। ফলে ভিড় জমাচ্ছেন আশেপাশের এলাকা থেকে আসা প্রচুর মানুষ। ঘুরে ফিরে কেবল দেখছেনই তা নয়, পাশাপাশি খোজ খবর নিচ্ছেন, আগ্রহ প্রকাশ করছেন আঙ্গুর চাষে। একই ভাবে ছুটে আসেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার। তিনি জানান যে বাণিজ্যিকভাবে চাষে কৃষি অফিস সহযোগিতা করবে।

One comment on “আঙ্গুর চাষ পদ্ধতির সুমিষ্ট সূচনা”

Mohammad Shamsuddin

আংগুর চাষের এবং চাষির জন্য অবশ্যই সুসংবাদ।

Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ